মৌলভীবাজারে জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ PM

মৌলভীবাজারে জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৭/২০২৪ ০৪:৫০:৪৯ AM

মৌলভীবাজারে জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস


কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে টানা সহিংসতার পর মৌলভীবাজারে জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরেছে। অফিস-আদালতসহ দোকানপাট খুলেছে, সড়কে চলছে যানবাহন। স্বাভাবিক হয়েছে জনজীবন। সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে ধীরে ধীরে এ আন্দোলন বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে ছাত্র সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত শনিবার রাতে সরকার কারফিউ জারি করে। রোববার সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ও সরকারি স্থাপনায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তাদের সড়কে টহল দিতে দেখা যায়। এছাড়াও সকাল থেকে জেলা শহরের বিপণী-বিতান, দোকানপাট, ব্যাংক, অফিস-আদালতে কাজ শুরু হয়। অন্যান্য দিনের মতো যান চলাচল স্বাভাবিক দেখা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মৌলভীবাজারে কারফিউ শিথিল করা হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। মৌলভীবাজারে এর মধ্যেই ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে শহরের বেশ কয়েকজন প্রবীণ নাগরিক জানান, কারফিউ জারির চার দিনের মাথায় স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মাঝে। বর্তমানে স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবন যাপনে কাজকর্ম করতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ব্যবসায়ী সুমন দাস বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও ক্রেতা কম। বেচাকেনাও কম। এরপরও স্বস্তি যে, অন্তত এবার তো দোকানপাট খুলেছে।

মৌলভীবাজার পৌরশহরের কুদালীপুল বাস বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস ঢাকা-সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

শহরের আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা সজিব আহমদ বলেন, দীর্ঘ কয়েকদিন বাসায় আটকা ছিলাম। কারফিউ শিথিল করায় আমি ঢাকা যাচ্ছি।

গীর্জাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুহেল রহমান জানান, তাদের ঘরে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার দু’টি। একটির কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেটি রিচার্জ করতে দু’দিন ঘুরেছেন। কিন্তু ভিড় দেখে কিনতে পারেননি। তবে আজ ভিড় কম থাকায় এক সঙ্গে দু’টি মিটার রিচার্জ করেছেন।

চাঁদনীঘাটের বাসিন্দা উন্মে হাবিবা বলেন, কয়দিন থেকে ঘরে বাজার শেষ হয়ে গিয়েছিল। কারফিউ শিথিল করায় বাজার ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে বের হয়েছি।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান জানান, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ছয়টি মামলায় মৌলভীবাজারে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলায় বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। কারফিউ শিথিলের নির্ধারিত সময়ে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে পারবেন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর