অর্থ সংকটে আটকে গেছে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ PM

অর্থ সংকটে আটকে গেছে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮/০৭/২০২৪ ০৪:২০:২৯ AM

অর্থ সংকটে আটকে গেছে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন


মেয়াদপূর্তির ছয় বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও অর্থ সংকটে আটকে গেছে দেশের সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। ফলে স্থবির হয়ে আছে সংগঠনটির কার্যক্রম।

নির্বাচন না হওয়ায় নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন আর এতে সংগঠনটির নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে সাংগঠনিক স্থবিরতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাবেক নেতারা।

তবে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নেতারা সাংগঠনিক স্থবিরতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, সরকার নির্বাচনের ব্যয় বহন না করায় আটকে রয়েছে নির্বাচন।

চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এরপর ২০২১ ও ২০২৪ সালে আরও দুটি নির্বাচন হওয়ায় কথা থাকলেও ২০১৮ সালের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি।

জানা গেছে, ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কাজ করার কথা সেগুলো করতে পারছে না। শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তি দুর্বল হচ্ছে। ইউনিয়ন মালিকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বকেয়া মজুরি আদায় করতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এখন শ্রমিকদের কাছে নেতাদের জবাবদিহিতা নেই। নেতৃত্বে থাকা অনেক নেতাই নিষ্ক্রিয়, অনেকে চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। ফলে আন্দোলন বা চা শ্রমিদের জন্য কথা বলার ইউনিয়নের নেতাদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি নির্বাচনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে সত্য কিন্তু সরকারকে বুঝাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় বুনার্জী বলেন, চা শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যয়ভার মূলত চা শ্রমিকদের চাঁদা থেকে নির্বাহ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় শ্রমিকরা আগের মতো চাঁদাও দিচ্ছেন না। এখন তো শ্রমিকদের দাবি দাওয়া পূরণ হয় না। মজুরি বৈষম্যর বিষয় ইউনিয়ন দেখে না। বাগানগুলোতে ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিলে নেতারা যেতে চায় না। শ্রমিকরা তাদের পায় না। নির্বাচনের জন্য অনেক টাকা লাগে। সেই অজুহাত দেখিয়ে দুই মেয়াদ ইতোমধ্যে পার করে দেওয়া হয়েছে। চা শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রতে কিছু ফাঁক-ফোকর রয়েছে। এজন্য কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা চেয়ার দখল করে বসে আছেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, বর্তমান কমিটি তিন বছরের জন্য শ্রমিকদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল কিন্তু এই কমিটি এখন ছয় বছর ধরে দায়িত্বে। দুই মেয়াদে। নির্বাচন না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়ছে পাশাপাশি ইউনিয়নের নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের আশা আকাঙ্ক্ষা ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণ করা ইউনিয়নের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

চা জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন ফোরামের আহবায়ক পরিমল সিং বাড়াইক বলেন, আমরা অবিলম্বে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন চাই। চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। চা শ্রমিকদের নেতৃত্বে প্রকৃত চা শ্রমিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, সবার মতো আমরাও চাই দ্রুত ইউনিয়নের নির্বাচন হোক। নির্বাচন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আয়োজন করার চেষ্টাই আমরা করছি। আমাদের নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগেই আইন অনুযায়ী শ্রম মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করেছিলাম। সরকার আমাদের নির্বাচনের জন্য ব্যয় ধরছে ৭০ লাখ টাকা। সেখানে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। আগের সব নির্বাচন সরকারি খরচেই হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, যেন আগের মতো সরকারিভাবে ব্যয় বহন করে একটি সুন্দর নির্বাচন আমাদের জন্য আয়োজন করে।

দীর্ঘদিন পরও নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমান কমিটি অস্বস্তিতে আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পঙ্কজ কন্দ। তিনি বলেন, নির্বাচন না হওয়ায় আমরাও দায়িত্বে থেকে একধরনের অস্বস্তিতে ভুগছি।

সার্বিক পরিস্থিতি জানতে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপপরিচালক ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর