গোয়াইনঘাটে হাকিম চৌধুরী'র জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১০:৩৬ AM

গোয়াইনঘাটে হাকিম চৌধুরী'র জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০/০৮/২০২৪ ০৫:৪৩:৪৩ AM

গোয়াইনঘাটে হাকিম চৌধুরী'র জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের কৃতি সন্তান জেলা বিএনপি'র সাবেক সহ-সভাপতি ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী'র জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কুচক্রীমহল । জানামানে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। ছোটবেলা থেকেই তিনি জনকল্যাণ ও মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে উঠে আসা এক উজ্জল নক্ষত্র। নওয়াগাঁও গ্রামের কিশোর-যুবক, আবাল, বৃদ্ধ-বনিতার সাথে হৃদস্পন্দে সখ্যতা গড়ে উঠে আসা একটি প্রতিচ্ছবি। লেখাপড়ার সাথে তার সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড নিজ গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো নন্দিরগাঁও ইউনিয়নেই। সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় নন্দিরগাঁও ইউনিয়নবাসীর মৌলিক অধিকার আদায়ে তিনি নিরলস ভাবে কাজ শুরু করেন। সামাজিক সংঘঠনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং তাঁরই হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল গোয়াইনঘাটে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক থেকে তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিএনপির দলীয় কার্যক্রমকে তৃণমূলে প্রসারিত করেন।

সমাজসেবায় তার ধারাবাহিক ব্যাপ্তি ঘটলে ১৯৮৮ সালে মাত্র ২৬ বছর  বয়সেই তিনি ৭ নং নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা করে ইউনিয়নবাসীর নজরে আসেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়ে নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ট হওয়ার পর তৎকালীন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণির সু-যোগ্য নেতৃত্বে আব্দুল হাকিম চৌধুরী সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানকে সালুটিকরস্থ রাইখাল ব্রীজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন। যা ছিল এম সাইফুর রহমানের সিলেট-৪ আসনে প্রথম সফর। গোয়াইনঘাটের পাশাপশি সিলেট জেলা বিএনপির রাজনীতিতেও আব্দুল হাকিম চৌধুরী নিজেকে মেলে ধরেন। নির্বাচিত হন সিলেট জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে। গোয়াইনঘাটে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে আব্দুল হাকিম চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতি-আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট করে অগনিত অপরাপর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদান করান। তিনি বিএনপির একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে নিজেকে আধিষ্ট রেখে উপজেলার সব ক’টি ইউনিয়নে বিএনপি ও অংগসংগঠনের ব্যাপ্তি ঘটান। সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মনে বিএনপির সহনশীল রাজনৈতিক দর্শন ও মতাদর্শ ছড়িয়ে দেন। একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপি ও অংগ সংগঠনের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলেন। গোয়াইনঘাটে সব ক’টি ইউনিয়নে আজকে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের এ মজবুত ভিত্তিরও অন্যতম কারিগর তিনি। সর্বশেষ গোয়াইনঘাট বিএনপির আহ্বায়ক পদে অধিষ্ট হয়ে সব ক’টি ইউনিয়ন ও গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সম্মেলন সফল করে মূল ধারার নেতাকর্মীদের দিয়ে উপজেলা কমিটি গঠন করেন। তিনি পরবর্তীতে সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গোয়াইনঘাটের মাটি ও মানুষের সাথে নিবিড় মাতৃতে গড়ে উঠায় তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরেও জনসাধারণের সাথে নিজেকে একিভুত করে রেখেছেন।  এছাড়াও  সমাজসেবায় মনোনিবেশ করে আসা আব্দুল হাকিম চৌধুরী এলাকার অপরাপর সুশীল সমাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে প্রতিষ্ঠা করেন দশগাঁও নওয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি তিনি উক্ত বিদ্যাপিঠের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আছেন। গোয়াইনঘাটের সর্ববৃহত বিদ্যাপিঠ গোয়াইনঘাট বিশ^বিদ্যালয় কলেজসহ উপজেলার সব ক’টি কলেজের দাতা সদস্য হিসেবে শিক্ষা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তিনি দীর্ঘ দিন সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকায় সাংবাদিক ও সংবাদপত্র’র একজন সেবক হিসেবে সবসময় গণমাধ্যম কর্মীদের পাশে দাড়ান। এজন্য উপজেলার গণমাধ্যম কর্মীদের সর্ববৃহত প্রতিষ্ঠান গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবেরও তিনি অন্যতম দাতা সদস্য। গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব আজকের অবস্থানে আসার পেছনেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিনি ২০০৯ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় অবস্থানকালীন স্রোতের বিপরীতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জনসেবা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করণসহ জবাবদিহিতামূলক উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলে জনগনের দৃষ্টি কাড়েন। তিনি ২০১৪ সালে পূণরায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জনগনের বিপুল ভোটে পুনরায়  নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ ও ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় তৃতীয় ও ৪র্থ বারের মতো উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি ওই দুটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। জনস্রোত রয়েছে ওই দুটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তিনি ৪র্থ বারের মতো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন।
 বিএনপির একজন উপযুক্ত, যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা আব্দুল হাকিম চৌধুরী। সাংগঠনিক তৎপরতায় এগিয়ে থাকা, উপজেলা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের  প্রাণ প্রিয় নেতা।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর