দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে উপাচার্য পেয়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ও দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি শাবিপ্রবির ১৩তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।
নিয়োগের পরপরই তার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্বলিত ৬৫ পৃষ্ঠার একটি জীবনবৃত্তান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ নেটিজেনদের কাছে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলায় জন্ম নেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি, ১৯৯০ সালে এমএসসি ডিগ্রি নেন। পরে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায়- পলিমার কম্পোজিটস ইউজিং অ্যানিম্যাল ফাইবারস- শীর্ষক প্রকল্পে কাজ করছেন তিনি।
অন্যদিকে জার্মানির জর্জ-অগাস্ট-ইউনিভার্সিটির পূর্ণকালীন গবেষক হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে শাবিপ্রবির এ নতুন উপাচার্যের।
নতুন উপাচার্যের ৬৫ পৃষ্ঠার জীবনবৃত্তান্ত থেকে জানা গেছে, তার ১৯৯ টি পাবলিকেশন, চারটি বই ও গবেষণার ২ হাজার ৮২ টি সাইটেশন রয়েছে।
শিক্ষাজীবনে কমনওয়েলথ ফেলোশিপ, জেএএসএসও (জাসো) ফেলোশিপ, জার্মানির দাদ ফেলোশিপ, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে নোনেসিকে, নরএফএ, সিওজিসিআই অ্যান্ড ডিএসএফএম ফেলোশিপসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের অ্যাওয়ার্ড ও স্কলারশিপ রয়েছে তার।
বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, জাপানি, আরবি ও জার্মান ভাষায় পারদর্শিতা রয়েছে এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর।
আরও জানা যায়, রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের পক্ষ থেকে নোবেল কমিটির সদস্য হিসেবে ২০১৩ সালে রসায়নে নোবেলের জন্য মনোনীত প্রার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তিনি ২০০৩ সালে কমনওয়েলথ ফেলোশিপ, ২০০৪ সালে জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ফেলোশিপ, ২০০৫ সালে গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল আর্থ সায়েন্স ফেলোশিপ, ২০১০ সালে জন আলেকজান্ডার ভন হাম্বোল্ট ফেলোশিপ, শাকিলা জামান ফাউন্ডেশন মেরিট পুরস্কারসহ বেশকিছু মেরিট অ্যাওয়ার্ড ও ফেলোশিপ পান।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বিএসটিআই, বিসিএসআইআর, কমনওয়েলথ সায়েন্স কাউন্সিল, আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি, জার্মান সায়েন্স সোসাইটি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটিসহ অসংখ্য সংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর রোববার শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রথম পা রাখেন তিনি।
শাবিপ্রবিকে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি শিক্ষা ও গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে চাই। তাই এ দুটি বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে। এখানে প্রতিটি শিক্ষক সিনিয়র স্কলার এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী জুনিয়র স্কলার হিসেবে যাতে গড়ে উঠতে পারেন, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাব। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা চাই।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
শাবি প্রতিনিধি 








