ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা, ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে অপহরণের চেষ্টা, থানার ভিতর ধর্ষণের মত অপরাধ, কলম দিয়ে খুঁচিয়ে চোখ অন্ধ করে দেয়া,সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানো, পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে সত্য গোপন করে মনগড়া তথ্যে মামলা তৈরি, শৃঙ্খলা পরিপন্থি গুরুতর অপরাধ, অসদাচরণ, পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, অভিযোগকারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া- এরকম নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তে তা প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। কিন্তু তার গায়ের পশম কেউ নাড়াতে পারেনি। বহাল তবিয়তে থেকে দুই দুইটি পদোন্নতি নিয়ে ডিএমপির ডিসির মত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট ভাগিয়ে নিয়ে দাপটের সাথে রাজত্ব কায়েম করে আসছেন।
তার নাম মো: আলমগীর হোসেন। তিনি সাবেক সিলেট রেঞ্জের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সাবেক কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও তার সঙ্গে ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছেন পুলিশের অপর ৫ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১ ওসি ও ৪ এস আই।
মৌলভীবাজারের সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন, বিপি নং-৭৯০৬১১১১৪৩ (বর্তমান সংযুক্ত এসপি, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়) ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ এর সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন- জে পি এল ডোর এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ ও জালালাবাদ প্রোডাক্টস লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম সজীব। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি এ অভিযোগ দায়ের করেন।
বিগত ২০১১ সালে মৌলভীবাজার জেলার সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন ও ডাক্তার রাজিয়া সুলতানার সাথে পরিচয়ের একপর্যায়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (জে পি এল ডোর এন্ড ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ) হইতে লোন বাবদ ২০ লক্ষ টাকা, বাকিতে ফার্নিচার, গাড়ী ক্রয়সহ অন্যান্য বাবত ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকাসহ সর্বমোট মোট ২৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা নেন।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমুদয় টাকাগুলো পরিশোধ করার জন্য সাইফুল ইসলাম সজীব অনুরোধ করলে আলমগীর হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। প্রতিশোধ নিতে কোন মামলা মোকদ্দমা ব্যতিরেকে বিগত ০৭/০৮/২০১২ ইং ব্যবসায়ী সজীবকে গুম করার উদ্দেশ্যে তার ঢাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান, কিন্তু স্থানীয় জনতা ও মিডিয়ার ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপের কারণে গুম করতে না পেরে মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিয়ে ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে সজীব এর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ৫ টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এর পেছনে তৎকালীন চিফ হুইপ, সাবেক কৃষিমন্ত্রী, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ও তার ছোট ভাই মোসাদ্দেক হোসেন মানিক এর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
উক্ত সাজানো মামলার বাদী আলমগীর হোসেনের খালাতো ভাই সোহেল রানা, ও তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ডা: রাজিয়া সুলতানা এবং বডিগার্ড নাজিম উদ্দিনকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটক রেখে দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতন ও জেল জুলুম এর মাধ্যমে তার শত শত শ্রমিকের কর্মস্থল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়।
এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সজীব বিগত ২৮/১১/২০১২ইং তারিখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরে আলাদা ২টি অভিযোগ দায়ের করেনে। পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।
উক্ত বিভাগীয় মামলায় বিগত ১৬/০৪/২০১৫ ইং তারিখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ৭(৬)এবং ৪(৩)(ডি) বিধি মোতাবেক “চাকুরী হতে বরখাস্ত””(Dismisal from service) গুরুদন্ড প্রদান পূর্বক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতামত চান।
বিগত ২১/১০/২০১৫ ইং তারিখ পাবলিক সার্ভিস কমিশন তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ৪(৩)(ডি) বিধি মোতাবেক “চাকুরী হতে বরখাস্ত “(Dismisal from service)” গুরুদন্ড প্রদানের বিষয় মতামত দেন। বিষয়টি তখন দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়। দীর্ঘ তদন্ত হয়, পুলিশ সদর দপ্তর সিকিউরিটি সেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সকল প্রতিষ্ঠানের সম্মতিতে এই দন্ড প্রদান করার পরও তিনি ঢাকা ভার্সিটির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক ডি এম পির কমিশনার হাবিবুর রহমানের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আবারও চাকুরীতে পুনর্বহাল হয়ে ২টি পদোন্নতি নিয়ে দাপটের সাথে ডিসি ডি এম পির মত পদ ভাগিয়ে নিয়ে বিগত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করেন।
ব্যবসায়ী মো: সাইফুল ইসলাম সজীব অভিযোগে আরো বলেন, তিনি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকাকালে থানার ভিতরে এক মহিলার সাথে খারাপ কাজে লিপ্ত হন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উক্ত মহিলার স্বামী লিটন হাসান ইমনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এছাড়া নিরীহ মানুষকে থানায় আটকে রেখে থানার ভিতর কলম দিয়ে খুঁচিয়ে চোখ অন্ধ করে ফেলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








