কবে শেষ হবে আর্চ সেতুর কাজ ?
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ PM

কবে শেষ হবে আর্চ সেতুর কাজ ?

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯/১২/২০২৪ ১০:৪৪:৩৪ AM

কবে শেষ হবে আর্চ সেতুর কাজ ?


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর ওপর গুদামের সামনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতুর কাজ ধীরগতিতে চলছে। সেতু নির্মাণ কাজের মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি।

দৃষ্টিনন্দন এ সেতুটি সিলেট বিভাগের প্রথম আর্চ সেতু। রাজধানীর হাতির ঝিলের আদলে সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে। বহুল প্রত্যাশিত এ সেতুর নির্মাণ কাজে ধীরগতিতে উপজেলাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও এলাকাবাসী জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে নলজুর নদীর ওপর ১৯৮৬ সালে গুদামের সামনে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৮ সালে এলাকাবাসী ও এলজিইডির মাধ্যমে নলজুর নদের ডাকবাংলোর সামনে আরেকটি সেতু নির্মাণ করে। ১৯৯৯ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরকে পৌরসভায় রূপান্তরিত ও শহরের ওপর দিয়ে পাগলা জগন্নাথপুর আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক চালু হওয়ায় শহরে যানজটের ব্যাপকতা ও নাগরিক ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। সরু এ দুটি সেতু দিয়ে চলাচল দুরূহ হয়ে ওঠে। যার প্রেক্ষিতে গুদামের সামনের সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতুটি ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১১.২৫ মিটার প্রস্থ থাকবে। সেতুটির দুই পাশে থাকবে ফুটপাত ও আলোকসজ্জা। সেতুর মধ্যস্থলে কোন পিলার নেই। নৌ—চলাচলের সুবিধায় উঁচু ফাঁক থাকবে। দুই পাশে অ্যাবাটমেন্টের মাধ্যমে ইস্পাত দিয়ে সেতুটি দৃষ্টিনন্দন হিসেবে দৃশ্যমান হবে।

২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সংসদ সদস্য তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক লাগান। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরেক দফা সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেতুর ৫০ শতাংশ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক এম এ কাদির বলেন, উপজেলা সদরের দুইটি সেতু একসঙ্গে অচল হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলাবাসী। দুই দফা মেয়াদ শেষ হলেও আর্চ সেতুর কাজ শেষ না হওয়া খুব দুঃখজনক। আর ডাকবাংলো সেতু নির্মাণ কাজের কোন খবর মিলছে না। বিগত দিনে অপরিকল্পিতভাবে সেতুর কাজ শুরু করায় নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করতে তিনি দাবি জানান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার সাইফুল আলম জানান, কার্যাদেশ পাওয়ার আট মাস পর কাজ শুরু করতে হয়েছে। নির্মাণাধীন সেতুর পাশে বিদ্যুতের তার ও খুঁটি এবং পুরোনো সেতু অপসারণ করতে সময় লেগেছে। এছাড়া বর্ষাকালে নদীতে পানি আসার কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সেতুর কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে তবে এখন পুরোদমে কাজ চলছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, নানা সীমাবদ্ধতায় সেতুর নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুটির প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সেতুটি দৃশ্যমান হবে। আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর