নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০২:৪৯ AM

তীব্র যানজটে নাকাল নগরবাসী, ঘন ঘন ঘটছে দুর্ঘটনা

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা

মো: ফারুক মিয়া

প্রকাশিত: ১১/০৫/২০২৫ ১০:৪১:৪৭ AM

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা


নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা যেখানে সেখনে পাকিং সিগন্যাল না মানায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। যার তার হাতে বিনা বাধায় ব্যাটারি চালিত রিকশা চলে যাওয়ার কারণে সিলেট নগরীতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সেই সাথে সিলেট নগরীতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানজট।

যানজটে ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা। অদক্ষ চালকদের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে পথচারী, মোটরসাইকেল চালক, প্রাইভেট কার, রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে থাকা মানুষদের। কেউই রক্ষা পাচ্ছেন না এসব চালকের হাত থেকে।  শুধুমাত্র এদের বেপরোয়া আচরণের কারণেই ব্যস্ত নগরীর পথচারীদেরও প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

নগর ঘুরে দেখা যায়, ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করাচ্ছেন। নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করছেন না তারা। আবার যাত্রী চালকদের দাঁড়াতে বললেই তারা সামনে বা পেছন থেকে কোনো গাড়ী আছে কিনা তা না দেখেই দাঁড়িয়ে যায়। আবার গাড়িটি কোন দিক যাবে তারও কোন সংকেত দেয় না। আর এতেই পথচারীরা ও অন্যান্য গাড়ীর চালক ও যাত্রীরা দুর্ঘটনার মধ্যে পড়েন। পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল্য।

এসব ব্যাটারি চালকরা ট্রাফিক আইনের কোন রকম তোয়াক্কা করেন না। নগরীতে গাড়ী চালানোর কোন নিয়ম অনুসরণ না করেই তারা গাড়ী চালায়। নিয়ম-নীতির কোন বালাই নাই এদের। এরা রাস্তাকে নিজের বাড়ির রাস্তা মনে করেই গাড়ী চালায়। শুধু চালকদের এমন আচরণের কারণে নগরীর যেসব এলাকা আগে ফাঁকা থাকতো সেসব এলাকাতেও এখন যানজট লেগে থাকছে। কিছুক্ষণ পর পরেই লাগছে তীব্র যানজট।

একদিকে, অসহ্য গরম অন্যদিকে যানজট দুই মিলে পথচারীরা পড়ছেন সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে। আর এ অবস্থা মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেকটি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তারা এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারছেন না। এসব চালক ট্রাফিক পুলিশের সাথেই তর্কে জড়িয়ে পড়েন। আর সাধারণ মানুষের কোন কথার তোয়াক্কাই করেন না।

নগরীর প্রায় প্রত্যেকটি এলাকায় ব্যাটারি চালিত রিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা ঘটে। শুধু নিজেরা নিজেরাই নয়, পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকসহ অন্য যানবহন চালকদেরও নিজের খামখেয়ালিপনার কারণে দুর্ঘটনার মধ্যে ফেলে দেয়। এইত গত কয়েকদিন আগে সিলেট নগীরর চৌহাট্রা পয়েন্টের আলাপাইন রেষ্টুরেন্টের সামনে এরকম একটি ঘটনার শিকার হয়ে একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া হাউজিং এস্টেট এলাকা ও আম্বরখানার বড় বাজার এলাকায় এরকম কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

এসব দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। কিন্ত কোনভাবেই যেন তাদের  নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এরা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। অনিয়ন্ত্রিত চালকের কারণে যে দুর্ঘটনা ঘটে তাতে করে নিমিষেই ম্লান হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন। মুহূর্তের মধ্যেই স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। আর এজন্য অনেকাংশেই দায়ী অনিয়ন্ত্রিত এসব চালকরা। 

নগরীতে চালকদের বেপরোয়া গাড়ী পার্কিংয়ের কারণে বেশ কিছু এলাকায় যানজট নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়েছে। অথচ কিছুদিন আগেও নগরীতে মানুষজন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারতেন। এসব অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও সিসিকের পক্ষ থেকে কোন অভিযান বা দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। 

প্রয়োজনের তুলনায় এসব রিকশা বেশি হওয়ায় এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ট্রাফিক বিভাগ। 

কয়েকজন পথচারীর সাথে কথা হলে বিপলু নামের এক ব্যক্তি বলেন, ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকরা রাস্তার সামনে পেছনে না দেখেই দ্রুত গতিতে চালিয়ে চলে যান। যাত্রীরা যেখানে তাদের থামাতে বলে সেখানেই তারা দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করায়। চালকদের উচিত ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ী চালানো। 

সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন,  ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি প্রয়োজন। এখন যে কেউ ইচ্ছে করলেই রিকশা চালক বনে যেতে পারছেন। তাই এদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি প্রয়োজন। 

নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক ও সিলেট জেলার আহবায়ক জহিরুল ইসলাম মিশু আজকের সিলেটকে বলেন, এটার পিছনে একটা বড় সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে হবে। আর ট্রাফিক বিভাগকে আমরা বিভিন্ন আন্দোলনে এই দাবি জানিয়ে আসলেউ কার্যত কোন ভূমিকা বা সুফল পায় নি। এই ব্যাটারি চালিত রিকশা এখন বন্ধ করা না গেলে এর ভোগান্তি পৌহাতে হবে সকলকে। আর ভবিষ্যতে আরও বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। রাজনীতিবিদ সুশীল সমাজ ও সচেতন ব্যক্তিরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব রিকশা বন্ধ করতে হবে। এই ব্যাটারি চালিত রিকশার জন্য পথচারী চলাচলে সমস্যা এবং এর সব থেকে বড় সমস্যা দুর্ঘটনা।

সিলেট মেট্রোপলিটনের পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আজকের সিলেটকে বলেন, সিএনজি থেকে কম ভাড়ায় ব্যাটারি চালিত রিকশা দিয়ে চলাচল করতে পারে এবং এই সামান্য লাভের আশায় তারা অসচেতন ভাবে এসব রিকশা ব্যবহারের কারণে এসব রিকশা বেড়েছে। সাধারণ মানুষ যদি এসব রিকশায় চলাচল না করে তাহলে তারাও এসব রিকশা চালাবে না। সিলেট নগরীতে ট্রাফিক অভিযান নিয়মিত ভাবে অব্যাহত রয়েছে । আর বিভিন্ন অলিগলি থেকে হঠাৎ করেই  এসব অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে আসে এটি একটি দুর্ঘটনার কারণ। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে এটা ট্রাফিক বিভাগের একার পক্ষে সম্ভব নয় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আজকের সিলেট/এফএম/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর