সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উদগল বিল হাওর উপ-প্রকল্পের ৯৫ ও ৯৬ নম্বর প্রকল্পের জিও টেক্সটাইল ফেব্রিকস লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির লোকেরাই দিনদুপুরে এই লুটপাট কান্ড ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ৯৪ নম্বর প্রকল্পের জিও টেক্সটাইল ফেব্রিকস রাতের অন্ধকারে চুরি হয়েছে বলে গ্রামের লোকজন এ প্রতিবেদককে অবগত করেন।
জানা গেছে, অকাল বন্যার হাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দিরাই উপজেলায় ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০২ টি ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গন বন্ধ ও মেরামত কাজ সম্পন্ন করে বাপাউবো। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে আলাদা বরাদ্দে জিও টেক্সটাইল ফেব্রিকস দিয়ে কার্পেটিং করা হয়। এ প্রক্রিয়াকে বাঁধ রক্ষায় সুরক্ষা কবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সরজমিন দেখা যায়, দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের খাড়ারপাড় গ্রামের পাশে মাছুয়াখাড়া নামক হাওর রক্ষা বাঁধটির অবস্থান। দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হয়। জিও টেক্সটাইল ফেব্রিকস দিয়ে কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে বাঁধটি ঝুঁকিমুক্ত করতে বরাদ্দ দেয়া হয় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।
খাড়ারপাড় গ্রামের একাধিক লোক জানিয়েছেন, শুধু হাওর রক্ষা নয়, মাছুড়াখাড়া বাঁধ দিয়ে পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের লোকজন স্থানীয় টেলিফোন বাজারসহ দিরাই উপজেলা সদরে যাতায়ত করেন। জিও টেক্সটাইল ফেব্রিকস এভাবে লোপাট না হলে এটি স্থায়ী হতো। বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া তারা চলাচল করতে পারতেন। প্রতিবছরই এমন ঘটনা ঘটে বলেও জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পিআইসির লোক ও তাদের নিযুক্ত পাহারাদার কার্পেটিং তুলে নিয়ে গেছে। জানতে চাইলে ৯৫ নম্বর পিআইসির সদস্য সচিব গোলাপ মিয়া বলেন, এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারবো না। পরে বলবো, বলেই মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।
৯৬ নম্বর পিআইসির সভাপতি মস্তফা বলেন, গত পরশু বেলা ১১টার দিকে একজন মহিলার কাছ থেকে খবর পেয়ে দৌড়ে বাঁধে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি গ্রামের লোকজন কার্পেট উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কারা নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে পরে বলবেন বলে জানান।
এছাড়া ৯৪ নম্বর পিআইসির সভাপতি আজিজুল ইসলামের ছেলে মুক্তার হোসেন বলেন, এই বাঁধ দিয়ে আমাদের গ্রামের লোকজন চলাচল করি। প্রয়োজন না থাকলে আমরা ইউনএনও সাহেবকে অনুরোধ করে জিও টেক্সটাইল ফেব্রিকস দিয়ে কার্পেটিং করি। যাতে স্থায়ী হয়। রাতের অন্ধকারে কারা যেন বেশীরভাগ জিও টেক্সটাইল ফেব্রিকস চুরি করে নিয়ে গেছে।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী এটিএম মোনায়েম বলেন, ৯৪ নম্বর প্রকল্পে জিও টেক্সটাইল ফেব্রিকস বরাদ্দ ছিল না। বিশেষ প্রয়োজন দেয়া হয়েছে। মেজারমেন্ট করে বিল দেয়ার কথা ছিল। দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজীব সরকার বলেন, এসব বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে আজই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। নোটিশ জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








