নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমির নাম সিলেট। প্রকৃতির অকৃপণ রূপ-লাবণ্যে ঘেরা এই সিলেট পর্যটন শিল্পে এনে দিতে পারে অপার সম্ভাবনা। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারত সীমান্তঘেরা এই অঞ্চলটিকে প্রাকৃতিক যেনো সাজিয়েছে নিজ হাতে। এ যেনো প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যের আঁচলে ঢাকা। তাইত সিলেটকে প্রকৃতি কন্যা নামে আক্কাহিত করা হয়। প্রকৃতি কন্যা সিলেটে এবার মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুরের লাল শাপলার লেক। লাল শাপলার এই লেকের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হচ্ছেন পর্যটকরা। জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওরে লাল শাপলার বিলকেও হার মানিয়েছে শ্রীপুরের এই লেক।
ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে খুব সহজে গিয়ে এই লাল শাপলার লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। সিলেট তামাবিল মহাসড়কের পাশে জৈন্তাপুর উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর এলাকায় এটির অবস্থান। ইতিহাস ঐতিহ্যের জনপদ জৈন্তাপুর প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের অন্যতম জায়গা। এ উপজেলায় আছে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট। উপজেলার ডিবির হাওরের লাল শাপলার বিলের পরিচিতি আছে দেশজুড়ে।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসুরা দেখতে আসেন শাপলার সৌন্দর্য। এবার শাপলার বিলকে হার মানিয়ে রূপের মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শ্রীপুরের লাল শাপলার লেক। এ লেকে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। শিশির ভেজা ভোরে পাপড়ি মেলা লাল শাপলা মুগ্ধ করছে পর্যটকদের। লেকের স্বচ্ছ পানিতে ফুটে ওঠা শাপলার রাজ্য দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে এসে ভিড় করছেন পর্যটকরা।
জাফলং, লালাখাল, শ্রীপুর ও লাল শাপলা বিল ঘুরতে আসা পর্যটকরা খুব সহজেই উপভোহ করতে পারবেন লাল শাপলা সৌন্দর্য। লাগবে না অতিরিক্ত খরচ। শ্রীপুর পিকনিক সেন্টার ও শ্রীপুর চা-বাগানের মধ্যখানে সুবিশাল জায়গাজুড়ে অবস্থান লেকটির। এটি ঘুরে দেখতে নৌকার প্রয়োজন হবে না। পায়ে হেঁটে লেকের লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। লেকটি দেখার পাশাপাশি শ্রীপুর পিকনিক স্পট, শ্রীপুর (রাংপানি) নদী, খাসিয়াপুঞ্জি, আধুরী ঝর্ণা দেখারও সুযোগ আছে।
জৈন্তাপুর পুরানর্কীতি ও পর্যটন উন্নয়ন সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম জানান, লাল-শাপলার লেকটির অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখার মতো। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতশত পর্যটক আসা-যাওয়া করলেও শ্রীপুর লাল-শাপলার লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন না। এটিকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ব্যাপক হারে প্রচরণা চালাতে হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি 








