মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোলেমান আহমদ (৪২) সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিয়নের হাল্লা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরে ভুক্তভোগীর বড় ভাই বিলন আহমদ থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ক্যাডার আবুল কালাম (২৫) এবং তার বাবা বাদল মিয়া (৪৫)সহ ৪/৫ জন সন্ত্রাসী পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার রাতে সোলেমান আহমদ কাননগো বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা আসামিরা তার পথরোধ করে। আবুল কালাম হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে সোলেমানের মাথায় একের পর এক তিনটি কোপ দেন। এতে তার মাথায় মারাত্মক জখম হয়। বাদল মিয়া হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
সোলেমানের আত্মচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে বড়লেখা হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে তার মাথায় ১৯টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
বাদী বিলন আহমদ অভিযোগে আরও জানান, আসামি আবুল কালাম এলাকায় চিহ্নিত গরু চোর। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ব্যালট লুট ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। সম্প্রতি এলাকায় গরু চুরি বেড়ে যাওয়ায় সোলেমান আহমদসহ স্থানীয় যুবকরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। এর জের ধরেই পরিকল্পিত এ হামলা চালানো হয়েছে।
বড়লেখা থানায় দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং ০১, তারিখ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন সাব-ইন্সপেক্টর রতন কুমার হালদার।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, আসামীকে ধরার প্রক্রিয়া চলমান আছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি খুব শীগ্রই গ্রেফতার করব।
বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আজকের সিলেট/এপি
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








