এবার দল পুনর্গঠনে মাঠে নামছে বিএনপি
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪৫

এবার দল পুনর্গঠনে মাঠে নামছে বিএনপি

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩/০২/২০২৪ ০৯:৩১:১৩

এবার দল পুনর্গঠনে মাঠে নামছে বিএনপি


বছরব্যাপী কঠোর আন্দোলন করেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে এখন দল পুনর্গঠনে মাঠে নামছে বিএনপি। প্রায় দেড়যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকে মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত দলটির নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ সকল কমিটি পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

এই মুহূর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতারা মাঠের নেতাকর্মীদের কীভাবে উজ্জীবিত রাখা যায়, তার উপায়ও খুঁজছেন। যেসব জেলা ও দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি সেখানে নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির কথা ভাবছে দলটি। তবে, যেসব সংগঠনে দীর্ঘদিন যাবত কাউন্সিল হচ্ছে না, সেসব জায়গায় সম্মেলনের কথা ভাবা হচ্ছে।

দলটির নেতারা বলছেন, আন্দোলনে ব্যর্থ ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া এবং নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে আন্দোলনে রাজপথে থাকা সক্রিয় নেতাদের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্বে সংগঠন সাজাতে হবে। বিগত বছরগুলোতে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে হয়েছেন নিঃস্ব। আবারও জেল-জুলুম সহ্য করতে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন সরব। সেসব নেতাকে মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন শূন্য পদে তাদের অধিষ্ঠিত করতে হবে।

বিএনপির দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বলেন, আপাতত বিএনপির কেন্দ্রীয়সহ কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন ভেঙে নতুন কমিটি করার চিন্তা দলটির হাইকমান্ডের নেই। তবে, যারা পদ পেয়েও বিগত সরকার বিরোধী আন্দোলন সক্রিয় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। কোনো বিভাগ বা জেলায় কতজন জেল খেটেছেন, তার একটি তালিকা করা হচ্ছে। এই তালিকা ধরে জেল খাটা নেতাকর্মীদের দলীয় পদ না থাকলে তাঁদের পরবর্তী সময়ে মূল্যায়ন করা হবে। যার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

দলের এহেন সিদ্ধান্তে নেতাকর্মীরা খুশি হলেও আতঙ্ক বিরাজ করছে দলের দায়িত্বশীল কিছু নেতাদের মাঝে। সেক্ষেত্রে যে কোনো সময় ছিটকে পড়তে পারেন যে কোনো পর্যায়ের নেতা। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর বিএনপিতে বড় আকারের পরিবর্তন আসতে পারে। অপসারণ ছাড়াও তিরষ্কারেরও শিকার হতে পারেন যে-কেউ। ইতোমধ্যে বেশ কজন নেতার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে হাইকমান্ডের তদন্তে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল-যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল, জাসাসের কমিটি এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি। তবে, শ্রমিক দলের সম্মেলন হয় না দীর্ঘবছর। আর অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে ওলামা দলের কমিটি। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি দীর্ঘদিন চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। আন্দোলনে এসব সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষনেতার রাজপথে পারফরম্যান্স নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক।

বিএনপির সহযোগী এক সংগঠনের সহ-সভাপতি আক্ষেপ করে বলেন, সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে আমাদের সংগঠনের মূল নেতৃত্বকে খুঁজে পাইনি। ফোন ধরেননি। আমরা নিজেরা নিজেদের কর্মীবাহিনী নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছি। আজকে যারা পদ দখল নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তাদের জীবনের মায়া আছে, আমাদের জীবনের মায়া নেই?

বিএনপির জাতীয় সম্মেলনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও আপাতত দলটির কাউন্সিলের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা।

তবে, তারা বলছেন, ব্যাপক রদবদলের পরিকল্পনা করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিষ্ক্রিয়দের সরিয়ে সক্রিয়দের আনা হচ্ছে। শূন্যপদেও আসছে নতুন নেতৃত্ব। মাঠ পর্যায়ের গূরত্বপূর্ণ কমিটিগুলোও ভেঙে-চুঙে রাজপথে সক্রিয়, বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য নেতাদের এনে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে।

দলের অঙ্গ সংগঠন এক সাবেক সভাপতি ও বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমার জানামতে বিএনপির যেসব অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের মেয়াদ আছে সেগুলো ভাঙা হবে না। বরং যারা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তাদের যোগ্যতা অনুসারে বিভিন্ন সংগঠনে পদায়ন করা হবে। সেক্ষেত্রে যদি কোনো সংগঠনের শীর্ষনেতাও পদ থেকে ছিটকে পড়েন তাতেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। কারণ, সরকার বিরোধী আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল তার আমলনামা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে আছে।

এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানায়, আন্দোলন করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হওয়া নেতাদের দিকে বিশেষ সুদৃষ্টি দেবে দলটি। কারাবন্দি অনেকের দলীয় পদপদবি নেই। সেক্ষেত্রে দলটির বিভিন্ন পদে বিশেষ করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মূল নেতৃত্বেও তাদের দেখা যেতে পারে। এছাড়াও যারা বিভিন্ন সময়ে দল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও দলের প্রতি আস্থা রেখে, সরকারের প্রলোভনের ফাঁদে পা না দিয়ে বিএনপির কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তাদের বিষয়ে অতিদ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে দলটি। সেক্ষেত্রে আগের পদের চেয়ে আরও ভালো পদেও আসতে পারেন কেউ কেউ।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের ভেতর বড় কোনো রদবদলের সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনও ভেঙে নতুন কমিটি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে, দলের চেয়ারম্যান বা নীতিনির্ধারকেরা যদি মনে করে যোগ্য কাউকে শূন্য পদে অধিষ্ঠিত করবে সেটা করতেই পারে। এ বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি কয়েকদিন আগে কারামুক্ত হয়েছি। দল পুর্নগঠনের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে, শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগে নতুন কমিটিও একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি এখনও হতে পারে পরেও হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের এখন মূল লক্ষ্য এ সরকারকে বিতাড়িত করে দ্রুত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আজকে দেশে যে আওয়ামী লীগ ছাড়া সকল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এটিও আমাদের প্রাপ্তি। দেশের জনগণ প্রহসনের ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে এটি আমাদের প্রাপ্তি। শত প্রলোভনেও সরকারের কাছে কেউ বিক্রি হয়নি এটিও আমাদের প্রাপ্তি।

আজকের সিলেট/ডিটি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর