চারদিকে বৃক্ষরাজি। মাথার উপর নিলাকাশ। বিশাল ক্যাম্পাস। সেই ক্যাম্পাসের চত্বরে অবস্থিত রুদ্র সেন লেক। লেকের জলে ভাসছে প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য আর শান্তির প্রতীক শাপলা।জলাভূমিতে শাপলার কোমলতা যেমন মন ছুঁয়ে যায়, তেমনি এর সরল সৌন্দর্যে লুকিয়ে থাকে গ্রামবাংলার নিঃশব্দ কাব্য।
সিলেটে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে শহীদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রুদ্র সেনের নামে নামকরণকৃত লেকটিতে থাকা লাল শাপলা মাধুর্যতা ছড়াচ্ছে ক্যাম্পাসজুড়ে।
শাপলার প্রেমে মুগ্ধ হওয়া শিক্ষার্থীদের মন জুড়াতে পাখির কলতানও যোগ হচ্ছে। সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি আর শান্ত পরিবেশ, দৃষ্টিনন্দন কিলোরোড, বিভিন্ন টিলা, ছোট ছোট টঙ দোকান আর পাখির কলতানে মুখরিত এই ক্যাম্পাস রূপ নিয়েছে এক টুকরো স্বর্গে।
ক্যাম্পাসের গোল চত্ত্বরের পাশে অবস্থিত এ লেক শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ধারক নয়, বরং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে রূপ নিতে শুরু করেছে। আর সেই প্রাণকেন্দ্রে এখন লাল শাপলা ফুটে পুরো লেক যেন এক রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে।
ভোরের সূর্যের আলো ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে ওঠে লাল শাপলা। মৃদু বাতাসে লেকের জলে উঠা ঢেউয়ে ধোল খায় লাল শাপলা। এসময় সৃষ্টি হয় এক অনন্য দৃশ্য। শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার চাপ বা শহরের কোলাহল ভুলে যেতে শাপলার এ সৌন্দর্যই যথেষ্ট।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সাদিয়া তাবাসসুম বলেন, পড়াশোনার চাপের মাঝে লেকের পাড়ে এলে মনটা ভরে যায়। লাল শাপলার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে বসে অনেকটা সময় কাটাতে ইচ্ছে করে। মাঝে মাঝে ছবি তুলতে আসি, মনে হয় ক্যাম্পাসটাই যেন রুপকথার রাজ্য। লাল শাপলার সৌন্দর্য রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়মিত উদ্যোগ দরকার।
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, রুদ্র সেন লেক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় বলা যায়। লাল শাপলার কারণে এখন লেকটা আরও মোহনীয় হয়ে উঠেছে। ভোরের নীরবতা, হালকা বাতাসের ছোঁয়া আর লাল শাপলার মনোহরণী রূপ মিলেমিশে রুদ্র সেন লেককে এক অনন্য কবিতায় পরিণত করে। ভোরে যখন শাপলাগুলো ফুটে থাকে, তখন দৃশ্যটা অবর্ণনীয়। এমন সৌন্দর্য ক্যাম্পাসের বাইরের মানুষকেও আকৃষ্ট করতে পারে।
শাবির ভূসম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ শাখার প্রধান অধ্যাপক আবুল হাসনাত বলেন, শাপলা শুধু নান্দনিকতার প্রতীক নয়, পরিবেশ রক্ষাতেও ভূমিকা রাখে। শাপলা যেহেতু আমাদের জাতীয় ফুল তাই আমাদের ক্যাম্পাসের রুদ্র সেন লেকে বিভিন্ন প্রকার শাপলা আমরা রোপন করছি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপের মধ্যে এই সৌন্দর্য তাদের মনকে উৎফুল্ল রাখবে। লেকের পানিকে শীতল রাখা, জলজ প্রাণীর আবাস তৈরি করা এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে শাপলার অবদান অপরিসীম। লেকের পানিতে ভাসমান এ ফুলগুলো আসলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যেরও প্রতীক। এগুলোর যত্ন নেয়া এবং লেক পরিস্কার রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
শাবি প্রতিনিধি 








