বাহুবলে শখের রঙিন তরমুজের সঙ্গে সাম্মাম চাষে সফলতা
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৪:৫১ AM

বাহুবলে শখের রঙিন তরমুজের সঙ্গে সাম্মাম চাষে সফলতা

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/১০/২০২৫ ০৮:০১:১৬ PM

বাহুবলে শখের রঙিন তরমুজের সঙ্গে সাম্মাম চাষে সফলতা


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার তুঙ্গেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা বিমান কান্তি ভট্টাচার্য পেশায় চিকিৎসক। শখের বশে তিনি চাষাবাদ করেন। এ মৌসুমে ঘরের পাশে প্রায় ২০ শতক পতিত জমি আবাদ করে মাচা তৈরি করেন বিমান। এরপর চাষ করেন রঙিন তরমুজের সঙ্গে সাম্মাম। এই চাষে তিনি পেয়েছেন আশানুরূপ সফলতা।

বর্তমানে মাচায় মাচায় ঝুলছে হলুদ, কালো ও সবুজ রঙের তরমুজ ও সাম্মাম। এর মধ্যে রয়েছে— বাইরে হলুদ ভিতরে লাল, বাইরে কালো ভিতরে লাল এবং বাইরে সবুজ ভিতরে হলুদ রঙের তরমুজ। ফলন দেখে মন ভরে যায় তার। খেতে রসালো ও সুস্বাদু এই তরমুজ ও সাম্মাম। এসব বিক্রি করে তিনি প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা লাভের আশায় আছেন। এখানে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা।

বিমান কান্তি ভট্টাচার্য জানান, তিনি চিকিৎসা সেবায় জড়িত হলেও কৃষির প্রতি রয়েছে তার গভীর আগ্রহ। চলতি বছরের আগস্ট মাসে ইউনাইটেড কোম্পানির ‘মধুমালা’, ‘ব্ল্যাক বেবি’ ও ‘ইয়েলো বার্ড’ জাতের তরমুজ এবং সাম্মামের চারা রোপণ করেন। নির্দিষ্ট দূরত্বে তৈরি বেডে পলিথিন ঢেকে ফুটো করে চারা রোপণ করা হয়। চারা বড় হলে বাঁশ ও সুতার সাহায্যে মাচা তৈরি করা হয়।

তিনি জানান, এবার প্রথমবারের মতো তিনি তরমুজের সঙ্গে সাম্মাম চাষ করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাচায় তরমুজ ও সাম্মাম চাষে তাকে পরামর্শ দিয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম। তার খেতে প্রায় ৭০০ গাছে দেড় হাজার তরমুজ ও ৫০টিরও বেশি গাছে শতাধিক সাম্মাম ফল ঝুলছে। বর্তমানে তিনি গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তরমুজ বিক্রি শুরু হলেও সাম্মাম বাজারে তুলতে আরও কিছু সময় লাগবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে হলুদ, কালো ও সবুজ তরমুজের দাম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং সাম্মামের দাম প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২২০ টাকা। সে হিসেবে প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন তিনি।

খেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে ঝুলছে রঙিন তরমুজ ও সাম্মাম। ছোট-বড় ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে মাচা। মালচিং পদ্ধতিতে পোকা দমনে ব্যবহার করা হয়েছে হলুদ ও ফেরোমন ফাঁদ। খেতে জৈব বালাইনাশক ও জৈব সার ব্যবহার করায় তেমন কোনো রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, “এ অঞ্চলের মাটি তরমুজ ও সাম্মাম চাষের উপযোগী। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। এর অংশ হিসেবে বিমান কান্তি ভট্টাচার্য মাচায় রঙিন তরমুজ ও সাম্মাম চাষ করে সফল হয়েছেন। তার খেতে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের তরমুজ এবং এক থেকে দেড় কেজি ওজনের সাম্মাম ফলন হয়েছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, “বাহুবলে আগে তরমুজ চাষ হতো না। আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করেছি। এখন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তুঙ্গেশ্বর গ্রামে চিকিৎসক বিমান কান্তি ভট্টাচার্য চাষ করেছেন রঙিন তরমুজ ও সাম্মাম। তার জমিতে চাষকৃত ফলন ভালো হয়েছে। এটি প্রমাণ করছে— বাহুবলের মাটি তরমুজ ও সাম্মাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এই ফলগুলো যেমন রসালো ও সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকরও।”

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর