ইসরায়েরের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহ পরও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ক্ষুধা ও অপুষ্টি পরিস্থিতি এখনো বিপর্যয়কর বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
এই পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে ডব্লিউএইচও বলছে, নেতানিয়াহু সরকার গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে পর্যাপ্ত খাদ্যসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
গাজায় যে পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী ঢুকছে, তা জনগণের পুষ্টির চাহিদা পূরণে একেবারেই অপ্রতুল বলে জানায় আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিদিন দুই হাজার টন ত্রাণ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তার কাছাকাছিও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কারণ গাজায় ঢোকার জন্য মাত্র দুটি পথ খোলা রাখা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি এনজিও পিএআরসির বিদেশি সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক বাহা জাকউত বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পরও গাজায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। বাণিজ্যিক ট্রাকে বিস্কুট, চকলেট, কোমল পানীয় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বীজ, জলপাইয়ের মতো পুষ্টিকর জিনিসপত্র নিষিদ্ধ।
‘পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ’, এমন মন্তব্য করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, ‘যে পরিমাণ ত্রাণসাহায্য ঢুকছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। যথেষ্ট খাদ্য না থাকায় ক্ষুধার পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
গত বুধবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা, ১১ হাজার ৫০০ গর্ভবতী নারীসহ গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ জনগণ অনাহারে ভুগছেন।
এখন গাজায় জন্ম নেওয়া ৭০ শতাংশ শিশুই সময়ের আগেই বা কম ওজন নিয়ে জন্মাচ্ছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) উপ-নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু স্যাবারটন এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে এই হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার কথা। জাতিসংঘ প্রতিদিন দুই হাজার টন ত্রাণ প্রবেশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।
কিন্তু বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ টন খাদ্য গাজায় প্রবেশ করছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








