সরকারি কলেজের প্যাডে বিয়ের দাওয়াতপত্র
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ AM

সরকারি কলেজের প্যাডে বিয়ের দাওয়াতপত্র

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১/১১/২০২৫ ১০:১৯:২৯ AM

সরকারি কলেজের প্যাডে বিয়ের দাওয়াতপত্র


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজের সরকারি প্যাডে বিয়ের দাওয়াতপত্র প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি এখন হবিগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমির উদ্দিন ও প্রভাষক মো. আব্দুল হাই ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কলেজের হিসাবরক্ষক মো. মোহিত মিয়ার (গ্রাম–বনগাঁও) ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান আগামী ৩১ অক্টোবর এবং বৌভাত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে কলেজের সব শিক্ষক ও কর্মচারীকে দাওয়াত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিটি কলেজের অফিসিয়াল প্যাডে প্রকাশিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। শিক্ষক, অভিভাবকসহ স্থানীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম–নীতির পরিপন্থি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রভাষক বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্যাডে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ মানে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি নির্দেশনা হিসেবে গণ্য হয়। সেখানে স্মারক নম্বরও দেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ এটি এখন দাপ্তরিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত। এমন দাওয়াতপত্র প্রকাশ সম্পূর্ণ বেআইনি ও প্রশাসনিক অনিয়ম।”

তবে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমির উদ্দিন বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি ভুলবশত অফিস প্যাডে হয়েছে। এটি আসলে সাদা কাগজে প্রকাশের কথা ছিল। এ ধরনের কাজ ভুলবশত হওয়ায় আমি দুঃখিত এবং সবার কাছে অনুতপ্ততা প্রকাশ করছি।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্যাড কেবল সরকারি কার্যক্রম, নির্দেশনা বা দাপ্তরিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা যায়। ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি প্যাডের ব্যবহার স্পষ্টতই বিধিবহির্ভূত।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীনকে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর