বাঁধে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩১

বাঁধে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭/০২/২০২৪ ০১:৫৮:৪৩

বাঁধে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস


সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন হাওরপারের কৃষকেরা। তবে বাঁধের ধস ঠেকাতে কাজ চলছে দিন-রাত।

জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলা দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তার বাঁধ ৬নং পিআইসি কমিটির অধীনে। প্রায় ১ কিলো মিটার দীর্ঘ বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প এলাকার উত্তর পার্শ্বে ছাইয়া কিত্তা নামক জায়গায় দুই বছর আগে বর্ষা মৌসুমে কিছু অসুধী ব্যবসায়ী রাতের আধারে মহাসিং নদী ও বাঁধের পশ্চিমে বালু মাটি উত্তোলন করে। এতে বাঁধের দুই পাশে মহাসিং নদীর অংশে ও হাওরের অংশে বড় বড় দুইটি ডোবার সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ২৭ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ছাইয়া কিত্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ শেষ পর্যায়ে। ৭/৮ দিন ধরে বাঁধের দুই পাশে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে বাঁধের মাটি দুই পাশে গভীর ডোবায় ধসে পড়ছে।

দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসলরক্ষা বাঁধের দুই পাশে ভাঙন শুরু হওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে ফসলরক্ষা বাঁধ এবং আর্থিক সংকটে পড়ছেন পিআইসি কমিটির লোকজন। মঙ্গুলবার সকালে সরেজমিনে দেখার হাওরের বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসলরক্ষা বাঁধের দুই পাশে জিও ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং করা হয়েছে। বাঁধের ফাটল অংশ আলাদাভাবে অতিরিক্ত মাটি ফেলে সংস্কার করার কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু বাঁধের দুই পাশে গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় মাটি ধরে রাখা যাচ্ছে না।

আস্তমা গ্রামের কৃষক ও পিআইসি কমিটির সভাপতি আজিমুল হক বলেন, আমাকে ছাইয়া কিত্তা বাঁধে কাজ করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাঁধের কাজের শেষ পর্যায়ে এসে আমার বাঁধের দুই পাশে ভাঙন শুরু হয়েছে। কোনভাবেই ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। এখন ভাঙন রোধে আরো অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দুইটি গর্ত মাটি ভরাট করা প্রয়োজন। না হলে বাঁধ রক্ষা করা যাবেন না। বৈশাখ মাসে হাওরে পানি এলে এ বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে। আমি উপজেলায় লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব ইয়াছিন খান বলেন, দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা হাওরের বাঁধটি আসলে হুমকির মুখে এবং ইতোমধ্যে বাঁধটি পরিদর্শন করেছি। প্রথামিকভাবে দুই পাশে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধের ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাঁধটি সম্পন্ন করতে পিআইসিকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাঁধের ভাঙন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা বাঁধটি পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চতর টিমের সাহায্য নিয়ে ফসলরক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর