সবুজ গাছের ফাঁকে ঝুলছে লালচে টমেটো। থোকায় থোকায় ফলের ভারে নুইয়ে পড়েছে গাছ। ওসমানীনগর উপজেলার বড় ইসবপুর ও সাদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখন এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। শীতকালীন অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভজনক হওয়ায় গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন—দুই মৌসুমেই টমেটো চাষে ঝুঁকছেন এখানকার কৃষকেরা।
চলতি মৌসুমে উপজেলাজুড়ে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক চাষিরা। ফলে টমেটো আবাদে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন ভুনছেন তারা। ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে টমেটো চাষের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রথম বারের মতো শীতকালীন টমেটো চাষ ভালো হওয়ায় খুশি চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বড় ইসবপুর গ্রামের দুই সফল চাষি মো. ফখরুল ইসলাম ও মাহিদুল ইসলামের জমিতে এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই জমিতে ধান চাষ করে এমন লাভ পাওয়া যায় না। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এ বছর অন্তত ২৫ জন চাষি টমেটো আবাদ করেছেন। শুধু তাই নয়, কেউ কেউ টমেটো চাষের আয় দিয়ে বিদেশ গেছেন বলেও জানান এই দুই কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উমরপুর, সাদিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন টমেটো আবাদ হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে টমেটো পাকতে কিছুটা দেরি হলেও এতে চাষিরা বেশি দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা রোপণও শুরু হয়েছে। গত বছর ১০০ হেক্টরে ২০০ কৃষক টমেটো চাষ করেছিলেন। সে বছর দাম কম থাকলেও এবার বাজারদর বেশি হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ জন কৃষককে কীটনাশক, সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষির উন্নয়নে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রদর্শনী কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
স্থানীয় চাষিরা জানান, গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে মঙ্গল, রাজা, বাহুবলি, কুবরা ও ইপক জাতের চারা ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের হিসাবে, ৩০ শতাংশ জমিতে টমেটো চাষে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ওই জমি থেকে আয় করা সম্ভব তিন লাখ টাকার মতো।
চাষিরা বলছেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে।
অন্যদিকে, আমন ধান কাটার পর এখন তাঁরা গ্রীষ্মকালীন টমেটো ক্ষেতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এবং বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। বাণিজ্যিক ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে ছোট পরিসরে টমেটো চাষ করেছেন অনেকেই।
টমেটো চাষে সফল চাষি ফখরুল ইসলাম বলেন, গত বছরও এই জমি থেকে তিন লাখ টাকা পেয়েছি। এবারও একই আশা করছি।’
আরেক সফল চাষি মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক একর জমিতে কৃষি অফিসের দেয়া প্রশিক্ষণ ও পরামর্শে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছি। ৩০ শতাংশ জমিতে টমেটো চাষে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি, তিন লাখ টমেটো বিক্রি করা যাবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমা বলেন, উচ্চফলনশীল টমেটো চাষের সম্ভাবনাময় ওসমাননীগর উপজেলা। এবছর টমেটোর বাজার মূল্য খুব বেশি থাকায় কৃষকদের টমেটো চাষে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবছর শীতকালীন টমেটো চাষ হয়েছে ৬০ হেক্টর জমিতে ও গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ হবে প্রায় দেড়শ হেক্টর জমিতে। কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পরামর্শ ও উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা আমরা কৃষকদের দিয়ে দিয়েছি এবং অব্যাহত রয়েছে। এ বার গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ আরও বাড়বে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
ওসমানীনগর প্রতিনিধি 








