হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি, নদীর পাড়, নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও ফসলি কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। উত্তোলিত এসব মাটি নিচু জমি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজে স্থানীয়ভাবে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অবৈধভাবে উত্তোলিত মাটি প্রতি ট্রলি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্রতি ট্রাক্টর ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের নজর এড়াতে দিনের পরিবর্তে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত প্রভাবশালী একটি চক্র ভেকু মেশিন ব্যবহার করে মাটি কেটে ট্রলি ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে পরিবহন করছে।
এতে একদিকে পরিবেশ আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গুলো। অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে ফসলি জমি হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক উৎপাদন ক্ষমতা এবং সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।
প্রতিদিন সরকারি খাস জমি থেকে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসগুলোতে মাটি উত্তোলন সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের গুইয়ারবন্দ হাওড়, পৌরসদরের বাঁশমহাল এলাকার নদীর পাড় ও চরাঞ্চল, বদলপুর ইউনিয়নের ঝিলুয়া হাওড়, পাহাড়পুর সদর, কাটাকালি হাওড়, কাকাইলছেও ইউনিয়নের ঘরধাইর হাওড়, শিবাপাশা-ঘরধাইর হাওড়, রসুলপুর ও জলসুখা ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওড়সহ উপজেলার অন্তত ২০টির বেশি স্পট থেকে প্রতিরাতে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কৃষি জমির উপরিভাগেই মাটির প্রধান জৈব গুণাবলি থাকে। এই উপরিভাগ ওকটে ফেলা হলে জমি তার স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ওফলে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন রাত নামলেই শুরু হয় মাটি বোঝাই ট্রলি ও ট্রাক্টরের বিকট শব্দ। সারারাত এসব যানবাহনের চলাচলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মাটি উত্তোলনকারী চক্রগুলো প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার সদর, বদলপুর ও কাকাইলছেও ইউনিয়নের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মাটি উত্তোলন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে কোনো অভিযোগ পেলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘কৃষি জমির উপরিভাগেই মূলত জমির জৈব গুণাগুণ থাকে। দীর্ঘদিন ধরে জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় জমির প্রাকৃতিক উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। একইভাবে অপরিকল্পিতভাবে নদীর পাড় বা চরাঞ্চল কেটে নেওয়া হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ নষ্ট হয়। এতে পরিবেশের ভারসাম্য হারানোর পাশাপাশি সরকারও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। এসব পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাÐ বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতা জরুরি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগেই যোগদান করেছি। মাটি উত্তোলনের বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








