৮ মাস দেশেই আত্মগোপনে মোমেন, পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০২:৪২ AM

৮ মাস দেশেই আত্মগোপনে মোমেন, পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪/০১/২০২৬ ০৩:০০:৪৮ PM

৮ মাস দেশেই আত্মগোপনে মোমেন, পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে


গণ-অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে চলে যান। টানা আট মাস তিনি দেশের ভেতরেই বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন। সম্প্রতি সাংবাদিক সুলতানা রহমানের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল টক শোতে অংশ নিয়ে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই আত্মগোপন ও দেশ ছাড়ার পুরো অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

একে আব্দুল মোমেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই। তিনি ২০১৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি আবারও বিজয়ী হলেও নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

টক শোতে ড. মোমেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। ধরা পড়ার আশঙ্কায় তিনি একের পর এক বাসা বদল করেছেন এবং ছয়বার মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করেছেন। নিজের চেহারাও পরিবর্তন করেন—দাড়ি রাখায় তাকে চিনে ফেলা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে সক্ষম হন।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা মূলত তার স্ত্রীই করেন। আত্মগোপনে থাকা ও দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে তিনি সরকারি লোকজনের কাছ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে তিনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়েননি জানিয়ে কোন পথে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।

ড. মোমেন আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং কয়েক দিন আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পরপরই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে এবং গণ-অভ্যুত্থান শুরু হয়। ফলে তাকেও অন্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হতে হয়।

তিনি বলেন, “এটা একটা সিনেমা হতে পারে। সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোনো অন্যায় করিনি। কাউকে জেলে পাঠাইনি, চুরি-চামারি করিনি। তাই প্রথমে ভাবতাম, আমি কেন পালাবো? কিন্তু যখন কর্নেল সাব ফোন করে বললেন, ‘স্যার, উই উইল প্রটেক্ট ইউ’, তখন সবাই আমাকে বলল—স্যার, আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে, এখান থেকে পালান।”

কোথায় কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি বলেন, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাননি, কারণ সবাই পরিচিত। বরং বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থেকেছেন, যেগুলোর মালিকেরা সাধারণত বিদেশি ক্রেতাদের থাকার জন্য বাসা প্রস্তুত রাখতেন। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতা না আসায় সেই বাসাগুলো ফাঁকা ছিল, যা তার জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে।

ড. মোমেন বলেন, মবের হামলার ভয় থেকে তিনি নিজের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছিলেন। এমনকি নাপিত ডাকানোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতেন—এক বাসায় থেকে অন্য বাসায় নাপিত এনে চুল-দাড়ি কাটাতেন, যাতে কেউ তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে। তিনি বলেন, “এটা লং স্টোরি। অনেক কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার স্ত্রীর চাপ আর বুদ্ধিতেই শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক দালাল আছে যারা বিদেশে পাঠানোর নাম করে টাকা নেয়। তবে তিনি জীবিত আছেন মানুষের দোয়ার কারণে। অনেক মানুষ তার জন্য দোয়া করেছেন, এমনকি হজ ও ওমরাহও করেছেন—যাদের অনেককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলেও উল্লেখ করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশকে বাঁচাতে হবে এবং বাংলাদেশকে কোনোভাবেই জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনের কারণ নিয়েও বিশ্লেষণ করেন। এই পতনের পেছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন এবং দাবি করেন, তিনি নানা সময়ে সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

আজকের সিলেট/ঢাপ্র/এএসআর

সিলেটজুড়ে


মহানগর