৬ নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, শাকসু নির্বাচন স্থগিত
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:৪৯ AM

সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

৬ নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, শাকসু নির্বাচন স্থগিত

শাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯/০১/২০২৬ ০৪:১২:৪০ PM

৬ নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ,  শাকসু নির্বাচন স্থগিত


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্টি ও জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার মধেই ৬ জন নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে একটি রীটের প্রেক্ষিতে স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ২০ জানুয়ারি এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।

এর আগে রোববার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিন ছাত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট।

শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে এ আদেশ দেন এ আদেশ দেয় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ। এরআগে রোববার এ রিট করেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজন।

এর আগে সোমবার সকালে নির্বাচন নিয়ে উদ্ভূদ্ধ পরিস্তিতিতে নিজেরা বিব্রত করায় নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন ৬ নির্বাচন কমিশনার। তারা হলেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ সিদ্দিকী, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুল আলম, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মুহ. মিজানুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজোয়ান আহমদ ও ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, এফইটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম।

সূত্রমতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে সারাদেশে সকল প্রকার নির্বাচন বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশনা অমান্য কওে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শাকসু নির্বাচন করার জন্য বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের উপর বলপ্রয়োগ করে আসছিল। এতে শান্ত বিশ^বিদ্যালয়ের পরিস্তিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হয়ে উঠে। সবশেষ উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বস্তি পেলো।

এদিকে, নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর বিক্ষোভ শুরু করেন শিবির সমর্থিত প্যানেল। তারা বহিরাগতদের সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ভোটের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার মধ্যে নির্বাচন স্থগিতের খবর পেল শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গত ১৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। শুরুতে ভোটগ্রহণের জন্য ১৭ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হলেও পরে তা ২০ জানুয়ারি করা হয়। এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘প্রভাবমুক্ত রাখতে’ গত ১২ জানুয়ারি ইসি এক আদেশে পেশাজীবীসহ সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। তবে ভোটের দাবিতে অনড় থাকেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। এর মধ্যে ১৫ জানুয়ারি আচরণবিধি মেনে চলার শর্তে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
এ সিদ্ধান্তসহ বেশ কিছু ঘটনায় ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের সামনে রোববার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল। সোমবার দুপুরে শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপিপন্থি আট শিক্ষক। এর পরপরই নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত এল উচ্চ আদালতের আদেশে।

এবারের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ২৩ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৭ জন। এছাড়া ছয়টি হল সংসদে লড়ছেন ৮৪ জন। প্রতিটি হল সংসদে নির্বাচনের জন্য ৯টি পদ রয়েছে। সবশেষ শাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২৫ অগাস্ট।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর