জমে উঠেছে ভোটের প্রচার, ভোটার টানতে ব্যস্ত প্রার্থীরা
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ PM

জমে উঠেছে ভোটের প্রচার, ভোটার টানতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০১/২০২৬ ০৯:৪৮:২১ AM

জমে উঠেছে ভোটের প্রচার, ভোটার টানতে ব্যস্ত প্রার্থীরা


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ নিজ এলাকায় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরাও বসে নেই। দলবেঁধে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন তারা।

বিভিন্ন আসনে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন প্রার্থীদের স্ত্রীও। স্বামীর জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্নের কথা। সাধারণ মানুষ দেখছেন, শুনছেন, ভাবছেন, আলোচনা করছেন। তারা এবার প্রতীক বেছে নেবেন, নাকি যোগ্য প্রার্থী, সেটিও আলোচনায় রয়েছে।

এবার কাগজের পোস্টার না থাকায় প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচার চালাচ্ছেন। সংসদীয় আসনগুলোর সর্বত্র পথঘাট ছেয়ে গেছে ব্যানার ও ফেস্টুনে।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চমকপ্রদ ছন্দ, সুর আর লিরিকের থিম সং, রিলস ও গ্রাফিক পোস্টের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে চলছে এক ধরনের উন্মত্ত প্রতিযোগিতা।

বিশেষ করে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রীতিমতো সৃজনশীল প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে সবকটি আসনেই জোরে-শোরে বইছে ভোটের হাওয়া।

সিলেট জেলার ছয়টি আসনে এবারের ভোটযুদ্ধে রয়েছেন মোট ৩৩ জন প্রার্থী। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাম দলগুলোর প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয়। পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। প্রতীক পাওয়ার পরপরই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সবাই।

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিলেট-১ আসনে। এ ছাড়া সিলেট-৩ আসনে ছয়জন, সিলেট-২, সিলেট-৪ ও সিলেট-৬ আসনে পাঁচজন করে এবং সিলেট-৫ আসনে চারজন প্রার্থী রয়েছেন ভোটযুদ্ধে।

সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে সঞ্চয় কান্ত দাস (কাঁচি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখন পর্যন্ত প্রচারণায় অনেকটাই এগিয়ে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, জনসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের প্রচারণাও চলছে জোরেশোরে। দল ও জোটের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিরামহীন প্রচার চালাচ্ছেন তিনি।

সিলেট-২ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে প্রচারণায় অনেকটাই এগিয়ে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। জামায়াত জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুনতাহির আলী দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল) ও গণফোরামের মো. মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য)। তবে তাঁদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না।

সিলেট-৩ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল মালিক (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (লাঙ্গল) ও জামায়াত ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু (রিকশা) প্রচারণায় এগিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল মালিক সবার আগে মাঠে নামেন। তার স্ত্রীও ভোটের মাঠে সক্রিয়। আর মুসলেহ উদ্দিন রাজুর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। অন্য দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (ফুটবল) ও মইনুল বকর (কম্পিউটার) ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ রয়েছেন। তাঁদের প্রচারণাও চলছে সমানতালে।

সিলেট-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাঠে সক্রিয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও জনসমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

অনেকটা দেরিতে মাঠে নেমেও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটছেন তিনি। তার সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানরাও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জাহিদ আহমেদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (লাঙ্গল) ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

সিলেট-৫ আসনে প্রচারণায় সবার নজর কেড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। ফুটবল প্রতীক নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্লান্তিহীন প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। এ আসনে বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুর গাছ) ও জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি) গণসংযোগ ও জনসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। হারিকেন প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় রয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিল্লাল উদ্দিনও।

সিলেট-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই দুই প্রার্থীর দম ফেলার ফুরসত নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে তাদের। জোরালো প্রচারণায় নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জমিয়তের মো. ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার)। সাধ্যমতো প্রচার চালাচ্ছেন অপর দুই প্রার্থী, গণঅধিকার পরিষদের জহিদুর রহমান (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর (লাঙ্গল)।

ভোটের মাঠে প্রার্থীরা ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এই প্রচার-প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর