প্রাচীনকাল থেকেই চুলের যত্নে তিলের তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদেও এই তেলকে চুলের জন্য পুষ্টিদায়ক বলা হয়। তিলের তেল চুল ও মাথার ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। তবে ভুলভাবে এই তেল ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে। তাই তিলের তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানাও জরুরি।
তিলের তেলে আছে ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো উপকারি সব উপাদান। এসব উপাদান চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত মাথায় তিলের তেল মালিশ করলে স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। ফলে চুল দ্রুত বাড়তে পারে।
খুশকি বা শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য তিলের তেল বেশ উপকারি। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তিলের তেল চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফলে চুল হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল।
অকালপক্ব চুলের সমস্যা দূর করতেও তিলের তেল কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের রং ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের ক্ষতি কমায়। যারা নিয়মিত হিট স্টাইলিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করেন, তারা তিলের তেল ব্যবহার করলে চুলের ড্যামেজ কম হয়।
কীভাবে নিরাপদে তিলের তেল ব্যবহার করবেন?
তিলের তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিন। সংবেদনশীল ত্বকে এই তেল সরাসরি ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই প্রথমে কনুইয়ের ভাঁজে বা কানের পেছনে সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি কোনো সমস্যা না হয় তাহলে বুঝবেন এই তেল আপনার জন্য নিরাপদ।
কীভাবে মাখবেন?
হালকা গরম করে তিলের তেল ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে স্ক্যাল্পে মালিশ করুন। খুব জোরে ঘষবেন না, এতে চুলের গোড়া দুর্বল হতে পারে। সপ্তাহে ১–২ বার মাথায় তিলের তেল লাগানোই যথেষ্ট।
কখন মাখবেন?
তিলের তেল সারারাত মাথায় রেখে দেওয়া অনেকের জন্য উপকারী হলেও, যাদের স্ক্যাল্প খুব তেলতেলে বা ব্রণ প্রবণ, তারা ১–২ ঘণ্টার বেশি এই তেল মাথায় রাখবেন। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। খাঁটি তিলের তেল ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়।
আজকের সিলেট/এপি
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








