সহিংসতা, কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল থেকে শুরু করে নানাবিধ অরাজকাতা পরিলক্ষিত হয় ভোটের দিন। ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে নেওয়া হয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্র নিরাপদ হলে তবেই ভোটাররা নিরাপদ। ভোটাররাও তখন উৎসব মূখর পরিবেশে ভোট প্রয়োগ করেন। কেন্দ্র নিরাপদ না হলে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা যায় না। ভোট কেন্দ্রে গুলোকেও সর্বাগ্রে নিরাপদ করতে হয় নির্বাচন কমিশনকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য রয়েছে সিলেটে ছয়টি আসনে এক হাজার ১৬টি কেন্দ্র। এরমধ্যে ২১৭টি কেন্দ্রেই কোন সংস্কার করানো হয়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রে নেই কোন সীমানা প্রাচীর। তাই ভোট কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে অরাজকাতার আশংকা থেকেই যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি নিয়েই নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
যদিও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বেই জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সংস্কার, মেরামত এবং সীমানা প্রাচীর বিহীন কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রেরণ করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনে। এমন তথ্য জানিয়েছেন সিলেট আঞ্চলের নির্বাচনী কর্মকর্তারা। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার পরও ত্রুটিপূর্ণ এসব ভোট কেন্দ্রের সংস্কারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর বিহীন এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহনের দিন অরাজকতা রোধে কিছুটা বেগ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার কেন্দ্রগুলো মধ্যে রয়েছে বিয়ানীবাজার ২ট, দক্ষিণ সুরমায় ৪টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ৪৬টি, কানাইঘাটে ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১টি, সিলেট সদর ৪৫টি, জকিগঞ্জ ৯টি ,জৈন্তাপুর ২৪টি এবং বালাগঞ্জ উপজেলায় ২৪টি।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় বরাবর প্রেরিত পত্রের সূত্রে জানা যায়, বাউন্ডারি নেই, দরজা জানালা ভাঙ্গা, বৈদ্যুতিক লাইট ও পাখা, ওয়াশরুম নষ্ট, প্রাচীর নেই, বিদ্যালয়ের গেইট নেই, টিন শেডের বেড়া সহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যার সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পত্র প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে ২১৭ কেন্দ্রের ত্রুটি নিয়েই নির্বাচন করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনকে।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকতা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম বলেন, এগুলো সময় সাপেক্ষ বিষয়। আমরা কোন কোন কেন্দ্রগুলো সংস্কার প্রয়োজন, তার একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করেছি। এখন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
অবশ্য এসব কেন্দ্র নিরাপত্তাহীন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
আজকের সিলেট/ডি/এপি
নিউজ ডেস্ক 








