জমে উঠেছে সিলেটের ঈদবাজার
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৮:৫৪ AM

জমে উঠেছে সিলেটের ঈদবাজার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯/০৩/২০২৬ ১১:১৬:১৩ PM

জমে উঠেছে সিলেটের ঈদবাজার


সিলেট নগরীতে রমজানের ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন মাকের্ট-বিপণিবিতানে জমে উঠেছে কেনাকাটা। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতারা ভিড় করছেন দোকানগুলোতে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেটের বেশিরভাগ লোকজন প্রবাসী, যাদের অনেকেই রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে; সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেননি। তাই এ বছর কেনাকাটা একটু কমেছে।

এদিকে, ঈদের কেনাকাটার কারণে যানজট লেগেই আছে পুরো নগরীতে। যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।

বৃহস্পতিবার বিকালে-রাতে নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

এসব এলাকায় দেখা যায়, ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নানা রঙের আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে মার্কেট ও শপিংমল গুলো। বেশিরভাগ ক্রেতাই পরিবার নিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আগে পরিবারের ছোট সদস্যর জন্য পোশাক দেখছেন, দরদাম করছেন।

কিশোর-তরুণদের কেউ দেখছেন জুতা-কেউবা আবার পছন্দের কাপড়টি ট্রায়াল দিয়ে দেখছেন, ভালো না লাগলে আবার নতুন করে খুঁজতে শুরু করছেন।

এর মধ্যে শহরের জিন্দাবাজার-নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় নামিদামি ব্র্যান্ড ও আধুনিক শপিংমলগুলোতে উচ্চবিত্তের ক্রেতাদের ভিড় বেশি। আর নগরীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের বেশি ভিড় রয়েছে বন্দরবাজার এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে।

এই এলাকার হাসান মার্কেট ও হর্কাস মার্কেটে রয়েছে উপচে পড়া ভিড়। সবাই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কেনাকাটা করছেন।

জিন্দাবাজারে পরিবারের সঙ্গে আসা ১২ বছরের আবিদা হক বললেন, “ঈদের দিনে পড়ার জন্য নতুন ড্রেস কিনেছি। এখন জুতা কিনতে এসেছি। তারপর সাজার জিনিস কিনব। আমার সঙ্গে বাসার সবাই রয়েছেন।

“দোকানে মানুষের ভিড় থাকায় দেরি হচ্ছে কেনাকাটা করতে। আমার কেটাকাটা শেষে আব্বু বাসার সবার জন্য পোশাক কিনবেন। ঈদের বাজারে এসে ভালো লাগছে।’’

বন্দরবাজার এলাকায় হাসান মার্কেটের কর্মচারি মাসুক আহমদ বলেন, “সিলেটে ১৫ রমজানের পর থেকেই ঈদের বাজার শুরু হয়। তবে এ বছর দশ রমজানের থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। এবার মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের পোশাকের চাহিদা বেশি।

“এখন ক্রেতার চাপ অনেক বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। আর আমাদের মার্কেটের আশপাশে তো সবসময়ই জ্যাম লেগেই আছে।’’

নয়াসড়ক এলাকায় অভিজাত বিপণিবিতানে আসা নগরীর কাজীটুলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “গত বছর যে বাজেটে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করেছি, এবার সেই বাজেটে হবে না। কারণ মার্কেটে এসে দেখি সব কাপড়ের দাম বাড়ানো। তবে কি আর করা, ঈদ বলে কথা, তাই বেশি দামেই সবার জন্য কাপড় কিনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এখান থেকে কাপড় কিনে জিন্দাবাজার গিয়ে জুতা কিনব সবার জন্য। এজন্য স্ত্রী, ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। দ্রুত কেনাকাটা শেষ করে বাসাতে ফিরতে চাই, কারণ বাসায় যেতে কয়েকটি পয়েন্টে যাটজট পড়তে হবে, আসার সময় যানজটে পড়েছিলাম।”

পোশাকের দাম নিয়ে অভিযোগ করলেন হাসান মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা সিলেটের বালাগঞ্জের বাসিন্দা ইকরাম হোসেন।

তিনি বলেন, “গত বছরই এই মার্কেট থেকে কাপড় কিনেছি পরিবারের সবার জন্য। এবারও এসেছি, কয়েকটি দোকানে ঘুরে কাপড়ের দাম বেশি মনে হচ্ছে। তাই এখনও কাপড় কিনিনি, দরদাম করতেছি। যে দোকানে দাম ভালো মনে হবে, সেখান থেকে কাপড় কিনে ইফতার করে বাড়ি ফিরব।”

দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরাও। তারা জানান, ঈদের মৌসুমে পুরুষদের শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি, নারীদের দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস, ফেব্রিক্স, গাউন ও বিভিন্ন ভাইরাল নামে আসা ড্রেস বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে বছরের চেয়ে এ বছর কাপড়ের দাম একটু বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী ও জুতার দাম।

গত বছরের তুলনায় জুতার দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। প্রসাধনীর দামও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

ঈদের কেনাকাটার কারণে অতিরিক্ত মানুষের চাপে নগরীতে বেড়েছে যানজট। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে জটলায় আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর।

সকাল থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত হাসান মার্কেট, মধুবন ও হর্কাস মার্কেট এলাকায় বিভিন্ন গাড়ির জটলা লেগেই আছে।

হাসান মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা আশরাফ মিয়া বলেন, ‘‘নগরীর হুমায়ুর চত্বর থেকে সিএনজিতে উঠে যাটজটের কারণে চারবার বিভিন্ন পয়েন্টে সিগন্যালে থামতে হয়েছে। দশ মিনিটের জায়গা আসতে সময় লেগেছে ৩৫ মিনিট। গরম পড়তে শুরু করায় জ্যামে বসে থাকতে কষ্ট হয়েছে। এখন কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ফিরতে চাই।’’

এর মধ্যে বন্দরবাজার এলাকার মার্কেটগুলোতে শহরের বাসিন্দা ছাড়াও উপজেলার লোকজন আসেন কাপড় কিনতে। তাই বন্দরবাজার এলাকায় যানজট একটু বেশিই লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে হামালার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সিলেটের ঈদবাজারে।

অভিজাত শপিংমলের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিলেটের বেশিরভাগ লোকজন প্রবাসী। তাদের পাঠানো টাকায় দেশে থাকা পরিবার বিভিন্ন খরচ ও কেনাকাটা করেন।

এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যেও লাখ-লাখ সিলেটি প্রবাসী রয়েছেন; বর্তমানে সেখানে যুদ্ধের কারণে প্রবাসীরা কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। অনেকে বাসা থেকে বাহিরেও বের হতে পারছেন না। এ জন্য টাকা পাঠাতে পারেননি অনেক প্রবাসী। তাই এ বছর কেনাকাটা একটু কমেছে, বলছেন ব্যবসায়ীরা।

সিটি সেন্টারের শাড়ী দোকানের কর্মচারি আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ঈদের বাজার করতে মার্কেটে মানুষজন আসতেছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর দামি মাল বিক্রি কিছুটা কমেছে। ক্রেতারা দরদাম করে নিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার দরদাম করে চলে যাচ্ছে। পরিচতি অনেক প্রবাসীদের পরিবার এখনও আসেনি বাজার করতে।”

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেন, “ঈদবাজার রাতে জমজমাট হয়, দিনের বেলা ক্রেতাদের সমাগম কম। গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা-বাণিজ্য কম হচ্ছে। আর প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে; বর্তমানে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে পারছে না। যার ফলে অনেকে কেনাকাটা করতে পারছেন না।”

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশানর উত্তর (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম বলেন, ‘‘ঈদবাজার উপলক্ষে নিরাপত্তায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মার্কেটে পুলিশ সদস্যরা রয়েছে। নগরীতে তল্লাশিচোকি বাড়ানো হয়েছে।

“এছাড়াও নগরীর যানজট নিরসনে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন”, বলেন তিনি।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর