বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীর চর থেকে রাতের আঁধারে বালু লুটের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে রমজান মাসের মধ্যভাগ থেকে প্রায় অর্ধশত ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে চক্রটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই বালু লুট চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে প্রশাসন। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দাবি এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
সূত্র আরও জানায়, প্রভাবশালী এ চক্রের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, কিছু যুবক, ট্রাক ও ট্রাক্টর চালক এবং মালিকরা জড়িত। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও ভয়ে মুখ খুলছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, সিলেট জেলার চর ইজারা তালিকায় আঙ্গারজুর এলাকার নাম না থাকায় এখানে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুশিয়ারা নদীর আঙ্গারজুর এলাকার চরটি বালুমহাল ইজারার জন্য কুড়ারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা গত ১১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তফশিলভুক্ত জটিলতার কারণে গত ৪-৫ বছর ধরে বালুমহালটি ইজারা দেওয়া হয়নি। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের নির্দেশনা দেন, যা এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জানান, রমজানের মধ্যভাগ থেকে প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ঈদের পর থেকে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী আঙ্গারজুর এলাকার গ্রামীণ সড়ক থেকে কিছুটা দূরে গড়ে ওঠা চরটি কয়েক বছর ধরে বিদ্যমান। সরকারি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় চরটি ইজারা দেওয়া হয়নি। সেই সুযোগে বালু উত্তোলনকারীরা চরের বিভিন্ন স্থানে ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর খাদ তৈরি করে অবাধে বালু লুট করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—সাইফুল আহমদ সাকী, শামীম আহমদ, রুয়েল আহমদ, ওমর, জাহাঙ্গীর আলম, ট্রাক্টর চালক সাজু ও জাকারিয়া এবং নৌকা চালক কালা মিয়া। এছাড়া কুড়ারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতার বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাইফুল আহমদ সাকী, রোয়েল আহমদ ও ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, প্রতিহিংসাবশত তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
চরের পার্শ্ববর্তী এক বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত সাকীর বিরুদ্ধে পূর্বেও এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি সিলেটে বসবাস করেন এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নদীর তীরবর্তী একটি অংশ থেকে স্থানীয় একটি ইটভাটার জন্য মাটি কাটা হয়েছে। তবে জায়গাটি ভাটার মালিকের। চরের বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং সত্যতা পেলে প্রশাসনকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে কয়েকজন অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবীবা মজুমদার জানান, বালু উত্তোলনের তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
জয়নুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার 








