সিলেটে কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের দোকান পজিশনধারী ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টের নির্দেশনা না মানার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাদের অভিযোগ, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে, ফলে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
রোববার দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ইনামুল করিম চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় কোটি টাকা সেলামি দিয়ে ব্যবসায়ীরা সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ১ থেকে ৭ নম্বর দোকান স্থায়ীভাবে ভাড়া নেন। পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও মসজিদ ট্রাস্টের সঙ্গে পৃথক সাতটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে তারা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অনেক ব্যবসায়ী আগাম ভাড়াও পরিশোধ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে চলতি বছরের ১০ মার্চ মসজিদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এক নোটিশে জানানো হয়, ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যমান ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে দোকান খালি করে দিতে হবে। ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্তকে এক তরফা, বেআইনি ও চুক্তিবিরোধী বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ট্রাস্ট বা জেলা প্রশাসনের এক তরফাভাবে চুক্তি বাতিলের কোনো এখতিয়ার নেই। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ১২ মার্চ আদালত দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়া পৃথক আরও দুটি রিটের প্রেক্ষিতে উচ্ছেদ নোটিশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আদালতের এ আদেশ থাকা সত্ত্বেও ২৫ মার্চ বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মার্কেটে গিয়ে দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন। পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে দোকানগুলোর শাটারে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যদিও ভেতরে কোটি টাকার পণ্য ছিল। এতে পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার চেষ্টা করলেও সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে তারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এ অবস্থায় হঠাৎ করে চুক্তি বাতিল ও উচ্ছেদের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
তারা অবিলম্বে তালাবদ্ধ দোকান খুলে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা না দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমদ তাফাদার, ইনামুল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ সানাজ, আল আমিন আহমদ, মো. আব্দুর রহিম বাদশা, মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








