হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় প্রায় ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি কৃষক; পানির নিচে গেছে অন্তত ১০ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন পাকা ধান।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার ভাবনা হাওরে। সেখানে ২৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন ঈমানী মিয়া। সার, বীজ, সেচ ও পরিচর্যায় খরচ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। কিন্তু আগাম বন্যায় পুরো জমি তলিয়ে যাওয়ায় এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি তিনি।
এ জমি থেকে প্রায় ৮০০ মণ ধান, যার অর্থমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়ার আশা ছিল বলে জানান ঈমানী মিয়া। সব হারিয়ে ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
একই হাওরে শাহাবুদ্দিনের ৩৬, মুহিত মিয়ার ২০, কবির মিয়ার ৩০ এবং ফজল মিয়ার ২৫ বিঘা জমির ধানও পানির নিচে চলে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে শুধু বানিয়াচংয়েই প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ৫ হাজার ৬০০ টন ধান তলিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার।
ঈমানী মিয়া বলেন, ছোটভাই ৪ লাখ টাকা খরচ করে ওমানে গিয়েও কিছু করতে পারেনি। ফিরে এসেছে। এর ওপর বোরোতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হলো। আয় নেই, ঋণ আছে, পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
ফোনে একই চিত্র তুলে ধরেন শাহাবুদ্দিন, মুহিত মিয়া, কবির মিয়া ও ফজল মিয়া। তাদের ভাষ্য, পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কিছুই তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহেদ আলী বলেন, গড়ে ৭০ শতাংশ ধান পেকেছিল। কয়েকদিন আগেও কৃষকদের হাসিমুখে হাওরে যেতে দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য নেই।
একই এলাকার কৃষক পরিবারের কলেজছাত্র দেলোয়ার হোসেন রাজু বলেন, দুদিন পানির নিচে থাকায় ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ কেউ কাটছেন, কিন্তু খরচ বেশি। লোকসানই বাড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের।
অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার বলেন, এখনও মোট আবাদ করা ধানের ৪৯ শতাংশ কাটা বাকি। বৃষ্টি ও পানি বাড়তে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 








