ওসমানীনগরে সোয়া কোটি টাকার ভারতীয় জিরাসহ আটক ১
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১২:৫৪ AM

ওসমানীনগরে সোয়া কোটি টাকার ভারতীয় জিরাসহ আটক ১

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/০৫/২০২৬ ০৮:২৪:২৯ PM

ওসমানীনগরে সোয়া কোটি টাকার ভারতীয় জিরাসহ আটক ১


ওসমানীনগরে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ৬০৩ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

তবে সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতাদের নাম পুলিশ জানলেও এজাহারে অদৃশ্য কারনে মামলার আসামি করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠেছে। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের আমলেও বিভিন্ন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ভারতীয় অবৈধ পণ্যের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞাত কারণে মাঝে মধ্যে দু-একটি চালান পুলিশ ধরলেও অধিকাংশ চালান গুলো পুলিশের নাকের ডগায় বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে ওসমানীনগর থানার এসআই (নি.) আশীষ চন্দ্র তালুকদারের নেতৃত্বে একটি একদল পুলিশ মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদে ভিক্তিতে গোয়ালাবাজার ইউপির ব্রাম্মন গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদের বসত বাড়ী থেকে জিরা ৬০৩ বস্তা অবৈধ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করে। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে ৭-৮ জন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়।

আটককৃত আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বসত বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৬০৩ বস্তা ভারতীয় জিরা পাওয়া যায়। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে মোট ১৮ হাজার ৯০ কেজি জিরা ছিল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আসামি কালাম স্বীকার করেছেন যে, তিনি তার পলাতক ভাই আব্দুল মুমিন সহ অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে জিরা বাংলাদেশে আনছিলেন। এ ব্যাপারে ওসমানীনগর থানার এস আই আশিষ চন্দ্র বাদী হয়ে কালাম তার ভাই মেমিন সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮জনের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতাদের মধ্যে অন্যতম জৈন্তার উপজেলার মোহন মিয়া বর্তমান টিকানা ওসমানীনগর থানা সামনে নিজ বাসা থেকে গোটা ওসমানীনগর সিন্ডিকেট করে এ ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ জানলেও মোহনসহ অনেকের নাম এজাহারে অদৃশ্য কারনে মামলার আসামী করা হয়নি।তবে মোহন মিয়ার দাবী করেন তিনি ৫ আগষ্টের পর থেকে ভারতীয় চোরাচালানী ব্যাবসা ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বালুর ব্যাবসা করছেন। বালু ব্যবসা বৈধ্য না অবৈধ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন সাক্ষাতে কথা হবে।

ওসমানীনগর থানার ওসি মুরর্শেদুল আলম ভুইয়া বলেন,এই ঘটনায় আটককৃত আবুল কালাম আজাদ,পলাতক আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। কালামকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে করতে অভিযান অব্যাহত আছে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর