ঋতুরাজ বসন্ত নিয়ে এসেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। নতুন পাতায় পাতায়, বর্ণিল ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে প্রকৃতি। শ্যামলিমার দিকে চোখ মেলে তাকালেই শুধুই তাক লাগানো শোভা! শিমুল ফুল বসন্ত প্রকৃতির এক অনবদ্য উপহার। শিমুল তুলা তৈরি হয় এই ফুল থেকে। শিমুল তুলার বালিশের চাহিদা এবং দাম দুটো সর্বাধিক। তার মাঝে বড় আকৃতির এই ফুল প্রস্ফুটিত হয় বলেই হয়তো ক্রেতা সাধারণের মাঝে শিমুলের তুলার বড় চাহিদা।
সেই শিমুল ফুলগুলোই বর্তমানে প্রকৃতিতে সরবরাহ করছে পাখিদের সেই ‘শরবত’! যা সংগ্রহ করার জন্য সারাদিন শিমুল গাছে গাছে নানান প্রজাতির পাখিদের ভিড় লেগেই থাকে। সূর্য উঠার সকাল থেকে শুরু করে সূর্য ডুবে যাওয়ার শেষ বিকেল পর্যন্ত চলে গাছে গাছে পাখিদের এই শরবত আহরণ। কী বিচিত্র কিচিরমিচির ডাক! তাতেই প্রাণ জুড়ায়। মন জুড়ায়।
ফুলে ফুলে ভরে ওঠা শিমুলগাছ দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ যেন রক্তিমবর্ণের এক গুচ্ছশোভা। ডালে ডালে প্রস্ফুটিত হয়ে আছে লোহিতরাঙা সংমিশ্রণ। সেখানে পাখিরা বসে ঠোঁট গুঁজে গুঁজে পরাগায়নের মাধ্যমে সঞ্চার করে চলেছে ফুলের প্রাণ। আহা!
সত্যি এ এক প্রাকৃতিক বিস্ময়! মাঝারি বা বিশালাকৃতির শিমুল গাছের জীবনসার্থকতার ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠার সম্ভার। পাখিদের ঠোঁটে ঠোঁটে তখন লেগে যায় ফুলের পরাগরেণু! কী অপরূপ সেই সৌন্দর্য!
বাংলা বুলবুল (Red-bented Bulbul), সিপাহি-বুলবুল (Red-whiskered Bulbul), ভাত শালিক (Common Myn), ঝুঁটি শালিক (Jungle Myna), পাকরা শালিক (Asian Pied Starling), খয়রালেজ-কাঠশালিক (Chestnut-tailed Starling), দাগি বসন্তবৌরী (Lineated Barbet), কালোমাথা-বেনে বউ (Black-hooded Oriole), বাংলা কাঠঠোকরা (Black-rumped Flameback) প্রভৃতি পাখিদের বিরাট সমাহার এখন শিমুলের ডালে ডালে।
শুধু পাখি নয়, মধুকরের দল এসেও ফুলেদের মাঝে ভাগ বসিয়েছে। তাদের বিরামহীন এবং দ্রুতবেগের ‘গুণন’ ‘গুণন’ মৃদুধ্বনি প্রকৃতির অন্যরকম এক বৃহৎ প্রাপ্তি! গাছের নিচে এসে দাঁড়ালে সহজেই শোনা যায় সেই মৃদু ধ্বনির বিরতিহীন গুঞ্জরণ।
‘ভাত শালিক’ ফুলের মাঝে শুধু একটি চুমুক দিয়ে নয়, বারবার কয়েকটি চুমুক দিয়েই পান করে থাকে শিমুল গাছের প্রাকৃতিক এই শরবত! সেই পথটি অনুসরণ করে ‘বাংলা কাঠঠোকরা’। তারও ভাত শালিকের মতো এক চুমুকে হয় না। শরবতের স্বাদ চেখে দেখতে কয়েকটি চুমুক লাগে।
পাশের ডালেই ‘পাকরা শালিক’! সেখানের একটি শিমুল ফুলে তখন থেকে মুখ গুঁজে আছে। অনেকক্ষণ ধরে এই পর্বটি সচল রাখার পর আসে সেই গাছে সমাপ্তির ক্ষণ।
তারপর ঠোটঁটি শিমুলের ডালের ওপর দুইবার আড়াআড়ি করে ঘসে তাৎক্ষণিক শরবত আহরণপর্বের ইতি টানে। যুগলবন্দিতে ছুটে যায় অন্য কোনো শিমুল ডালের উদ্দেশ্যে।
আজকের সিলেট/বিএন/এসটি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








