সমুদ্রপথে ইউরোপে যাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ PM

সমুদ্রপথে ইউরোপে যাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা

প্রবাস জীবন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩/০৬/২০২৬ ০৮:৪৭:০৮ AM

সমুদ্রপথে ইউরোপে যাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা


ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অবৈধভাবে অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটের সমুদ্রপথে এখনো বাংলাদেশিদের প্রবেশ সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে।

শুক্রবার ইইউর সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ফ্রন্টেক্সের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রায় ৩৯ হাজার অবৈধ অভিবাসীর সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।

ফ্রন্টেক্স বলছে, ইইউ সীমান্ত সুরক্ষায় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যেসব দেশ থেকে ইউরোপমুখী যাত্রা শুরু হয় সেখানে নেওয়া প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে অভিবাসীর সংখ্যা মে মাসে কম দেখা গেছে। এতে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকার সংখ্যাও কমেছে।

এদিকে, শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় ইউরোপের বহিঃসীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য অভিন্ন ও মানসম্মত স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।

ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হানস লেইটেনস বলেন, এখন থেকে ইউরোপের বহিঃসীমান্তে পৌঁছানো সবাইকে একই মানদণ্ডে শনাক্ত, নিবন্ধন ও যাচাই করা হবে। এতে সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির পরিবর্তে একক ব্যবস্থা চালু হলো।

ফ্রন্টেক্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে সবেচেয়ে বেশি অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছে। এই রুট দিয়ে ইইউতে অবৈধভাবে প্রবেশের মোট ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটেছে। অন্যদিকে পশ্চিম আফ্রিকা রুট দিয়ে সবচেয়ে কম অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছে। এই রুটে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের ঘটনা ৭১ শতাংশ কমেছে। তবে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে উল্টো ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত আলজেরিয়া থেকে যাত্রা বাড়ায় এই বৃদ্ধি ঘটেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রন্টেক্স বলছে, মানব পাচারকারী চক্রগুলো এখনো অভিবাসীদের অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় সমুদ্রে পাঠাচ্ছে। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে।

মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে বাংলাদেশিরা শীর্ষে
এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অভিবাসী ইতালি ও স্পেনে প্রবেশ করেছে। এ পথে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ জন ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। মে মাসে সমুদ্রের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অভিবাসীর প্রবেশ বেড়েছে। তবে তা এখনো গত বছরের তুলনায় অনেক কম। এই রুটে লিবিয়া ছিল অভিবাসীদের প্রধান যাত্রা শুরুর দেশ। আর অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি, সোমালি ও সুদানি নাগরিক সবচেয়ে বেশি ছিলেন।

পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে বৃদ্ধি
পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুট একমাত্র প্রধান রুট, যেটি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের সংখ্যা বেড়েছে। এ পথে প্রায় ৭ হাজার ১০০ জন অভিবাসী শনাক্ত হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। আলজেরিয়া ছিল এই রুটের প্রধান যাত্রা শুরুর দেশ। স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ ছিল অভিবাসীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

ফ্রন্টেক্স বলছে, মরক্কো ও পশ্চিম আফ্রিকা এবং মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে কঠোর নজরদারির কারণে মানব পাচারকারীরা ক্রমেই আলজেরীয় উপকূলের দিকে ঝুঁকছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর