আজ শুক্রবার। রামজানের ২য় জুমআহ। স্বাগত মাগফিরাতের দশক। অতিবাহিত হচ্ছে ১১তম রোজা। মুমিনের জন্য জুমুআর দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন। ইসলামে পবিত্র জুমুআর গুরুত্ব অতি ব্যাপক। কুরআন ও হাদিসে জুমুআর দিন এবং নামাযের ফজিলত নিয়ে বিপুল আলোচনা রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, এ পর্যন্ত মহান আল্লাহ আমাদেরকে ১১টি রোজা রাখার তৌফিক দিয়েছেন।
শুক্রবার দিনে মুসলিম উম্মাহ আলাদা আমেজ লাভ করে, এরমধ্যে রামজান এবং জুমুআ হিসেবে আজকের দিনটি বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। বিশ্ব মুসলিম বিশেষ ইবাদত বন্দেগিতে মাহে রামজানের দিনগুলো অতিবাহিত করছেন। রামজান এবং জুমুআকে কাজে লাগিয়ে আজকের দিনটি হয়ে ওঠুক আমাদের জন্য রবের অপার রহমতে ভরপুর।
পবিত্র কুরআনে জুমুআর গুরুত্ব তুলে ধরে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আলাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত মসজিদে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝ’ (সুরা জুমা: ৯)।
হাদিস শরীফে জুমুআর নামাজের গুরুত্ব প্রসঙ্গে মহানবী সা. বলেছেন, ‘ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তি, এ চার প্রকার মানুষ ছাড়া সব মুসলমানের ওপর জুমুআর নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য’ (আবু দাউদ)।
অপর হাদিসে মহানবী সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে সুন্দর করে গোসল করবে, অতঃপর তেল এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, তারপর মসজিদে গমন করবে, দুই মুসল্লির মাঝে জোর করে জায়গা নেবে না, সে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, চুপ করে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে। দুই জুমুআর মধ্যবর্তী সময়ে তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’ (আবু দাউদ)।
একটু ভেবে দেখুন, মহান আল্লাহ পাক পবিত্র জুমুআর দিনকে আমাদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি এই দিনের যথাযথ মূল্যায়ণ করছি? আমরা কি আমাদের জাগতিক কাজকর্ম বন্ধ করে আজানের সাথে সাথে মসজিদে গিয়ে খুতবা, নামাজ আদায় এবং দিনের অন্যান্য সময় আল্লাহর স্মরণে অতিবাহিত করি?
আজকে যেহেতু পবিত্র জমআহ এবং মাগফিরাতের দশকের ১ম দিন আমরা অতিবাহিত করছি, তাই আমাদের উচিত হবে নিজেদের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।
আল্লাহর এতো বড় রহমতের বিষয়টিকে যে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হবে-তার চেয়ে হতভাগ্য আর কে থাকতে পারে? অসাধারণ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাহে রামজানে সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের ঈমানি চেতনা সুদৃঢ় হয়, তাকওয়া বা আল্লাহভীতির নিদর্শন প্রকাশ পায় এবং অত্যন্ত গভীরভাবে ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি সঞ্চারিত হয়।
রামজান মাসে রোজা পালন করে খোদাভীরুতা অর্জনের মাধ্যমে সংযত আচরণ এবং আল্লাহর হুকুম পালনের যোগ্যতা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া যায়। এ মাসে বন্দি করে রাখা হয় অভিশপ্ত শয়তানকে। অবারিত করা হয় রহমত লাভের সুযোগকে।
একটা বিষয় মনে রাখতে হবে- সারাদিন আমরা রোজা রাখছি অথচ দৈনন্দিন নামাজ সময়মত আদায় করছি না। তাহলে ঐ রোজায় আপনার কতটুকু সিয়াম সাধনা হলো? কেননা সারাদিন উপবাস থাকার মাধ্যমে আপনি একটি ফরজ আদায় করলেন মানে রোজা রাখলেন! অথচ পাঁচওয়াক্ত নামাজ আদায়ে ৫টি ফরজ সম্পন্ন করা হয়। আসুন শুধু ফরজ রোজা নয়, সময়মতো ফরজ-ওয়াজিব সুন্নাত নামাজগুলোও যথাযথভাবে আদায়ন করি। (চলবে)
লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।
শাহিদ হাতিমী 








