আজ ২০ রামজান । আজ মাগরিবের আগেই মু’তাকিফরা মসজিদে বা নির্ধারিত জায়গায় অবস্থান নিবেন। মুমিন জীবনকে পরিশীলন করার অনন্য এক মাধ্যম এতেকাফ। শরীয়তের পরিভাষায় রামজানের শেষ ১০দিন বা যেকোনো দিন দুনিয়ার সব কাজ-কর্ম তথা পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মসজিদে বা ঘরের পবিত্র স্থানে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে এতেকাফের নিয়তে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলা হয়।
এতেকাফ ৩ প্রকার
- ওয়াজিব
- সুন্নাত
- মুস্তাহাব
ওয়াজিব এতেকাফ
এটা হচ্ছে মান্নতের এতেকাফ। কেউ মান্নত করল আমার উমুক কাজ সমাধান হয়ে গেলে ৫ দিন বা ১০দিন এতেকাফ করব। তখন উক্ত উদ্দেশ্য সিদ্ধি হয়ে গেলে তাকে নির্দিষ্ট দিনগুলোর এতেকাফ অবশ্যই করতে হবে। কেননা তখন তা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যায় । মান্নতের ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত অর্থাৎ রোজা না রেখে ওয়াজিব এতেকাফ করা যায় না।
সুন্নাতে মুআক্কাদা কিফায়া
রামজানের শেষ দশ দিন অর্থাৎ ২১ রামজানের সূর্য ডোবার আগ মুহূর্ত থেকে শাওয়াল মাসের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত মসজিদে এতেকাফ করা সুন্নাতে মুআক্কাদা কিফায়া বলে । মহল্লাবাসীর পক্ষে কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তি এতেকাফ করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে । অন্যথায় গ্রামবাসী সকলেই সুন্নতে মুআক্কাদা পরিত্যাগকারী হিসেবে গোনাহগার হবে।
মুস্তাহাব বা নফল এতেকাফ
মুস্তাহাব বা নফল ই’তিকাফের জন্য কোন দিন বা সময় এর পরিমাপ নেই এবং রোজা রাখাও শর্ত নয় । অল্প স্বল্প সময়ের জন্য তা হতে পারে । এজন্য যে কোন সময় মসজিদে প্রবেশের সময় যদি এতেকাফের নিয়ত করা হয় তাহলে মসজিদে অবস্থানকালীন নামাজ, জিকির- আযকার, কুরআন তেলাওয়াত যা করা হোক তার সওয়াব তো পাওয়া যাবেই সাথে সাথে আলাদা এতেকাফের সওয়াব পাওয়া যাবে ।
পবিত্র আল কুরআনে এতেকাফ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা- যখন আমি কাবা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ। (আল বাকারা – ১২৫)
মসজিদুল হারামে এতেকাফ করলে তা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট এতেকাফ। তারপর মসজিদে নববীতে এবং তারপর বায়তুল মুকাদ্দাসে। তারপর উৎকৃষ্ট এতেকাফ হয় কোনো জামে মসজিদে করলে যেখানে রীতিমতো জামাতে নামাজ হয়। এর পরের মরতবা নিজের গ্রাম বা মহল্লার মসজিদে এতেকাফের।
এতেকাফের চারটি শর্ত
- মসজিদে অবস্থান করা, নারীদের জন্য ঘরে
- নিয়ত করা
- বড় নাপাক থেকে পাক হওয়া
- রোজা অবস্থায় হওয়া
২০ রামজান সূর্যাস্তের সময় থেকে মসজিদে ইতেকাফ শুরু করতে হবে। রামজানের শেষে চাঁদ দেখার পর মসজিদ থেকে বের হবে। রোজায় মহল্লার জামে মসজিদে ইতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া মানে হলো, সবার পক্ষে একজন বা একাধিকজন আদায় করতে হবে। না হয় পুরো এলাকাবাসীর গুনাহগার হবে।
এতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজার শেষ ১০ দিন এতেকাফ করবে, সে ব্যক্তি দু’টি হজ ও দুটি ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। হজরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসুল সা. দুনিয়াতে যতদিন জীবিত ছিলেন, রামজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে এতেকাফ করেছেন। জীবদ্দশায় কোনো রামজানের শেষ দশকে এতেকাফ বাদ দেননি (-বুখারি, মুসলিম)।
মহানবী সা. বলেন, আমি লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য ও মহিমা অনুসন্ধানে প্রথম দশদিন ও মাঝের দশদিন এতেকাফ করেছি অবশেষে আমার কাছে একজন ফেরেশতা এসে বলেছেন, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা এতেকাফ করতে চায় তারা যেন শেষ দশকে এতেকাফ করে। এতেকাফকালীন অধিক কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তাসবিহ, জিকির, দোয়া-দরূদ, দান-সদকা ইত্যাদি আমল করা। কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ ও অনর্থক গল্প-গুজবে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। মসজিদে লেনদেন না করার পাশপাশি প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের না হওয়া । মহান আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দিন। আমীন। (চলবে.......)
লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।
শাহিদ হাতিমী 








