সুনামগঞ্জে নাতনির বাড়ি ইফতার দিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আরেক নাতনিসহ দাদী নিহত হয়েছেন। নিহত দাদী শামসুন্নাহার (৭৫) ও নাতনি জান্নাত (১৪) দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের তলবাউসী গ্রামের আতাউর রহমানের মা ও ছোট মেয়ে।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের গাগলী এলাকায় মালবাহী ট্রাক মোটরসাইকেলের পেছন ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলে থাকা দাদী-নাতনি নিহত। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী শহীদুল ইসলামকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে দিরাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন শামসুন্নাহার ও জান্নাত। পথিমধ্যে হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় মোটরসাইকেলটিতে চারজন আরোহী ছিলেন। একপর্যায়ে জয়কলস ইউনিয়নের গাগলী এলাকার সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শামসুন্নাহার বেগম।
মোটরসাইকেলের থাকা অন্য আরোহীদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাতের মৃত্যু হয়।
নিহতের আত্মীয়রা জানান, ছোট নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে দিরাই থেকে সুনামগঞ্জ সদরের বড়ঘাট এলাকার আরেক নাতনির বাড়ি ইফতার নিয়ে যান। রাতে মোটরসাইকেলে করে দিরাই ফেরার পথে গাগলী এলাকায় একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়ব। এতে দাদী-নাতনি দুজনই নিহত হন।
সুনামগঞ্জের সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৪ জন এসেছিলেন হাসপাতালে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আরেকজন হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে। মোটরসাইকেল চালককে সিলেটে রেফার করা হয়েছে। একজন কিছুটা সুস্থ আছেন৷
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মুক্তাদির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মূলত এক মোটরসাইকেলে চারজন আরোহী থাকায় সেটি বৃষ্টির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্য দুজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








