দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ৫টি আসন থেকে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র ছাড়াও এবার বিভিন্ন দল থেকে ২৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২১ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট বৈধ ভোটের (কাস্টিং ভোট) ৮ ভাগের ১ ভাগ পেতে হয়। ওই ২১ প্রার্থী মোট কাস্টিংক ভোটে ৮ ভাগের ১ ভাগও না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর) বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী নবাব সালেহ আহমদ ডাব প্রতীকে ৯৯ ভোট, গণফ্রন্টের প্রার্থী মো. জাহানুর রশিদ মাছ প্রতীকে ৫১ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মো. আব্দুল মন্নান তালুকদার ১৯৪ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি বিএসপি’র মো. হারিছ মিয়া একতারা প্রতীকে ৫২৪ ভোট ও তৃণমূল বিএনপির মো. আশরাফ আলী সোনালী আঁশ প্রতীকে ২৬৪ ভোট পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এই আসনে নৌকা প্রতীকে আ.লীগ প্রার্থী এড. রনজিত সরকার ১ লক্ষ ১০৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন (কেটলী প্রতীক) পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৩১১ ভোট এবং ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিম আহমদ ৪৬ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সচিব মো. মিজানুর রহমান ঈগল প্রতীক নিয়ে ১৯৬৮ ভোট, গণতন্ত্রী পার্টির মিহির রঞ্জন দাস (কবুতর) প্রতীক নিয়ে ২৪৯ ভোট পান। এই আসনে কাঁচি প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা। তিনি পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭৫ ভোট। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল-আমিন চৌধুরী) নৌকা প্রতীকে ৫৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী সোনালী আঁশ প্রতীকে ৪০৯৫ ভোট, জাতীয় পার্টির হোসেন তৌফিক আলী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ২০৪৫ ভোট ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির তালুকদার মকবুল হোসেন কাঁঠাল প্রতীক নিয়ে ৫১৪ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এই আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর – বিশ^ম্ভরপুর) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ২ প্রার্থীর মধ্যে বিএনএম-এর প্রার্থী দেওয়ান শামছুল আবেদীন নোঙ্গর প্রতীকে ১৮৭ ভোট, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ঈগল প্রতীকে ১২৬ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এছাড়া এই আসনেই আওয়ামী লীগের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবারক হোসেন কাঁচি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৪৭৭ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মোহাম্মদ দিলোয়ার আম প্রতীকে পেয়েছেন ৪০০ ভোট। ফলে তাদের দু’জনেইর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আ.লীগ প্রার্থী ড. মোহাম্মদ সাদিক পেয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭১৮ ভোট।
সুনামগঞ্জ-৫ ( ছাতক ও দোয়ারাবাজার) নির্বাচনী আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে গলফোরামের আইয়ুব করম আলী উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ৫৬৯ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আবু সালেহ একতারা প্রতীকে ৩০৭ ভোট, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী মনির উদ্দিন বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে ২০৪ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির প্রার্থী আজিজুল হক আম প্রতীকে ৩৬১ ভোট, ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ’র প্রার্থী আশরাফ হোসেন টেলিভিশন প্রতীকে ৫৯ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এড. নাজমুল হুদা হিমেল লাঙ্গল প্রতীকে ৮২২ ভোট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী আব্দুল জলিল গামছা প্রতীকে ১৬৪ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই আসনে মুহিবুর রহমান মানিক নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম চৌধুরী পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৮ ভোট।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








