বন্যা, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কায় গোয়াইনঘাটের কৃষকরা
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৯:২৮ AM

বোরো ধান কর্তন শুরু

বন্যা, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কায় গোয়াইনঘাটের কৃষকরা

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে

প্রকাশিত: ২০/০৪/২০২৪ ১১:১৬:৫৩ AM

 বন্যা, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কায় গোয়াইনঘাটের কৃষকরা


কৃষি ও কৃষক হচ্ছে বাংলার প্রাণ। জলবায়ুর পরিবর্তন, বিরূপ আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক সব বাধা পেরিয়ে কৃষিই বাংলাদেশের অন্যতম চালিকাশক্তি।কৃষি মানে এখন আর শুধু ধান, পাট আর কিছু শস্য উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নেই। কৃষি এখন একটি সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার নাম। যেখানে সারা বছর ফলানো হয় সবজি, ফল, মাছচাষ, গবাদি পশুপালন এমনকি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনাও হচ্ছে। তবে কৃষির অন্যতম সাফল্য দেশে ধান উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে।

বর্তমানে চলছে বোরোর মৌসুম।সারা দেশের ন্যায় সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বোরো ধান কর্তনের ধূম পড়েছে।বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

তবে পুরো মাড়াই মৌসুম শুরু হবে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে। এ অবস্থায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আতঙ্ক মাথায় নিয়ে স্বপ্নের ফসল বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।এ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হাওরের ক্ষেতের পাশের হালি চারায় বোরো ধান ঝাড়াই মাড়াই ও শুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসছেন কৃষক। সরেজমিনে দেখা যায় কেউ কাস্তে হাতে ধান কাটতে ব্যস্ত, কেউবা জমি থেকে মাথায় করে ধানের মুট জমির আইলে তুলছেন,আবার কেউ কাঁধে করে ভার দিয়ে খলায় নিচ্ছেন।

সেখানেই মাড়াই মেশিন দিয়ে মাড়াই করে ধান পরিষ্কার ও শুকিয়ে বস্থা বন্দী করে মাথায় নিয়ে হাওরের প্রধান সড়কে  তুলছেন। পরে সিএনজি অথবা ঠেলাগাড়ি করে বাড়িতে নিয়ে আসছেন।কেউবা তপ্তগরমে পরিশ্রম করে ঘর্মাক্ত শরীরে ছাতার নিচে বা গাছের ছায়ার নিচে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া জমিনের আইলেই সেরে নিচ্ছেন কৃষক। বোরো ধান নিয়ে কৃষকের আকাশ আকাশচুম্বি স্বপ্ন, এ সময় বসে থাকার সুযোগ নেই। কারণ বোরো ধান ঘরে তোলেই কৃষকের সারা বছরের পরিবারের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে ধান ও চাউল বিক্রির মাধ্যমে পারিবারের অন্যান্য খরচ চলে। তাই বন্যা ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কা নিয়ে বোরো ধান কর্তনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান,স্হানীয় জাতের ধান, টেপি গড়ছি থেকে শুরু করে হাইব্রিড ও নতুন জাতের ধান আবাদ করেছেন।ভালো ফলনে বেশ খুশি তারা। কিন্তু বন্যা,ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কায় রয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৮ শত ৩৩ হেক্টর জমি।উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ছোট বড় ৬০ টি হাওর রয়েছে।এ পর্যন্ত হাওরের ২০ শতাংশ ও উপরের পাঁচ শতাংশ বোরো ধান কর্তন হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন,৭০ থেকে ৮০ ভাগ ধান পাকলে,আমারা কৃষকদেরকে ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি।শ্রমিক সংকট নিবারণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন রয়েছে।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে রয়েছেন, কৃষকদের তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর