সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় যত্রতত্র মিলছে বাংলা মদ। এ মরণ নেশায় কিশোরসহ যুবকরা আশক্ত হয়ে পড়ছেন। মাদকের মহামারীতে যুব সমাজ এখন ধ্বংসের পথে। উপজেলার বেশ কয়েকটি মাদক স্পট দিন দিন ভয়ংকর রুপ ধারণ করছে। বাংলা মদসহ বিভিন্ন মাদকে এলাকার কলেজ শিক্ষার্থীসহ কিশোর, যুবক, বৃদ্ধরা বিভিন্ন মাদকের সম্পৃক্ততায় জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া মাদকের এমন ভয়াবহতায় এলাকা জুড়ে চুরি, জুয়া, ঝগড়া, মারামারি প্রায় সময়েই লেগে থাকে। উপজেলার বিভিন্ন স্পটে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদকের কেনা বেচা। এসবে কেউ প্রতিবাদ করলে মামলা হামলার শিকার হতে হয় বলেন স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে ।
সূত্র জানায়, শাল্লা থানা পুলিশের চোখের সামনে সুকৌশলে দীর্ঘদিন যাবত মাদকের (মদের) ব্যবসা করে আসছে নারকিলা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার প্রায় ৩০টি পরিবার। এ গ্রামে থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না মদ বিক্রি। ফলে এলাকার সচেতন মহল কলেজ শিক্ষার্থীসহ তাদের সন্তানদের নিয়ে উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়ছেন।
সরজমিন গিয়ে কথা হয় নারকিলা গ্রামের এসবের সঙ্গে জড়িত কয়েক মদ বিক্রেতার সঙ্গে, তারা জানান, এ এলাকায় আর্থসামাজিক এবং আয়-মূলক কাজকর্ম না থাকায় এ পেশাটি বেচে নিয়েছেন তারা। মোটরসাইকেল যোগে বিষাক্ত যুক্ত এলকোহল দিয়ে বাংলা মদ তৈরি করে শাসখাই বাজার, আনন্দপুর বাজার,পাহাড়পুর বাজার, প্রতাপপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই দিয়ে থাকেন।
দীর্ঘদিন ধরে এ গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় মদ তৈরির কর্মকাণ্ড চালু থাকায় গ্রামটিতে কয়েকদিন পর পর মারামারি, হয়ে থাকে। সল্পমূল্যে মদ কিনতে পারায় গ্রামের অধিকাংশ যুবকরা নেশাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এ গ্রামে সন্ধ্যা হলেই মোটরসাইকেলের আনাগোনা বেড়ে যায়। শুধু এ গ্রামেই নয় উপজেলার চিকাডুকিসহ বিভিন্ন স্পটে মদ বিক্রি হয় থাকে।
সম্প্রতি উপজেলার ফয়েজুল্লাহপুর ডালার পাড় নামক স্থানে স্থানীয়রা তিন মাদককারীকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। গত রোববার বাংলা মদ বিক্রির কারখানা খ্যাত নারকিলা গ্রামে শাল্লা থানা পুলিশ অভিযান ৪০ লিটার মদ, সরঞ্জাম, উপকরণ সহ এক মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করে এক যুবক বলেন, উপজেলার সরসপুর ও আছানপুর গ্রামের মধ্যবর্তী শ্মশানঘাটের আশে পাশের স্থানগুলো হল মাদকের প্রধান স্পট। এছাড়া পাশ্ববর্তী খলাপাড়া বাজারে প্রতিদিনই চলে মাদকের জমজমাট আড্ডা। আর মদ বিক্রির অন্যতম স্পট কলাপাড়া বাজার। এখানে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মদদে মদ বিক্রি হয়ে থাকে।
স্থানীয় যুবক আলমগীর মিয়া নামের একজন বলেন, এলাকায় প্রকাশ্যে মদ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবাদ করার মত আমাদের সাহস নাই। প্রতিবাদ করলেই মাদক বিক্রেতারা তাদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়।
শাল্লা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন। মোমবার সকালে থানায় যোগদান করেছেন। এ গ্রামে কয়েকদিন পর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল ৪০ লিটার বাংলা মদসহ একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, থানার কোনো অফিসার যদি এসবে জড়িত থাকে তাহলে অবশ্য ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








