গোয়াইনঘাট উপজেলায় বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে নির্বিঘ্নে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে কাঙ্খিত আশার ছাপ। দিনভর নানা ব্যস্ততায় সময় পার করছেন কৃষক-কিষানি। বৈশাখ মাসে হাওরাঞ্চলের ঘরে ঘরে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়ে যায়। গত কয়েকদিন পূর্বে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের মনে যে আতঙ্কের জন্ম নিয়েছিল এখন আর সেটা নেই। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ধান কাটতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
গোয়াইনঘাটের মাঠে মাঠে সোনালী ফসল বোরো ধানের সোনালী শীসে ভরপুর। সেই ফসলের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা কৃষক। এমন চিত্র দেখা গেছে উপজেলার হাওর গুলোতে।
সরেজমিনে হাওর ঘুরে দেখা যায়, বাতাসে দুলছে বোরো ধানের শীষ। পাকা, আধা পাকা, কৃষকের কষ্টার্জিত আবাদকৃত ফসল মাঠের পর মাঠ সুবাস ছড়াচ্ছে। এরমধ্যে এসব ধান কাটা ও শুকিয়ে গোলায় তোলার ধুম পড়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এবারের বাম্পারে ফলনে কৃষকরা আনন্দিত, তবে শ্রমিক সংকট থাকায় চিন্তায় আছেন কৃষকরা।
নওয়াগাঁও গ্রামের কৃষকরা বলেন, এবার খুবই ভালো আবাদ হয়েছে। প্রতি কিয়ারে মিলছে ১৫-২০ মন ধান। ফলনে আমরা খুবই খুশি। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে আছে। বাকি দিন গুলি এ রকম থাকলে গোলায় ধান উঠাতে পারব।
আরেক কৃষক জানান, চাহিদার চেয়ে ভালো ফলন হওয়াতে খুবই আনন্দিত।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়,এবার উপজেলায় ৯৮১৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন প্রতি হেক্টর যে লক্ষ্য মাত্রা ছিল তা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন হবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকতা রায়হান পারভেজ রণি বলেন, হাওরে প্রায় ৫০ শতাংশ কোথাও কোথাও ৭০-৮০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ধান কাটতে ও শুকাতে কৃষকদের কোন প্রকার ভোগান্তি পেতে হচ্ছে না।আগামী এক সপ্তাহ আবহাওয়া এরকম থাকবে। উৎপাদন প্রতি হেক্টর যে লক্ষ্য মাত্রা ছিল তা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন হবে, যদি আকস্মিক প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না আসে আশা করা যায় সুন্দর ভাবে ফসল কৃষকের ঘরে উঠবে।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এসটি
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








