হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে স্কুলছাত্র তানভীর হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি ও ১ জনকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নছরতপুর গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৫), নূরপুর গ্রামের মলাই মিয়ার ছেলে শান্ত (২৬) ও বাছিরগঞ্জ বাজারের জলিল কবিরাজের ছেলে জাহিদ মিয়া (২৮)।
মঙ্গলবার সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন। রায়ে ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্তদের ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেন। কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী হলো- মরমা গ্রামের মৃত মরম আলীর ছেলে লিমন।
সিলেট কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সরোয়ার আহমদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীরা পরিকল্পনা করে খুব নির্মম ভাবে তানভীরকে হত্যা করে তার লাশ পুঁতে রেখেছিল। তবে আসামিরা একদিন পরেই গ্রেফতার হয়েছিল এবং তাদের দেখানো মতেই লাশ ও আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। আদালতের কাছে স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২১ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার তাদের ফাঁসির আদেশ দেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, তানভীরের প্রতিবেশী উজ্জ্বল বাড়ির পাশে সবজি ও ফল চাষ করতেন। সেই জমিতে চাষ করা কলা উজ্জ্বল বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। তখন তানভীরের বাবা ফারুক মিয়া উজ্জ্বলকে বলেন, তুই এই কলা চুরি করে এনে বাজারে বিক্রি করছিস। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বাজারে সালিশ বৈঠকে উজ্জ্বলের বাবা সৈয়দ আলীকে অপমান করেন ফারুক। সবার সামনে বাবাকে অপমানের কথা ভুলতে পারেননি উজ্জ্বল। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। এরই মধ্যে উজ্জ্বলকে ইরাকে পাঠিয়ে দেন বাবা। ছয় বছর পর দেশে ফেরেন। পরিকল্পনা করতে থাকেন কীভাবে বাবাকে অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া যায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তানভীরকে প্রথম দফায় অপহরণের চেষ্টা করেন উজ্জ্বল এবং তার সহযোগী জাহিদ। ওই যাত্রায় বেঁচে যান তানভীর। ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি উজ্জ্বল, জাহিদ এবং শান্ত মিলে তানভীরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। উজ্জ্বলকে শান্ত জানান, তানভীরকে ঘরের বাইরে আনার দায়িত্ব তার। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শান্ত কৌশলে তানভীরকে ওই এলাকার পুকুর পাড়ে ডেকে আনেন। উজ্জ্বল ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে উজ্জ্বল তানভীরের মোবাইল নিয়ে নেন। সেখানে তানভীরের গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দেন উজ্জ্বল। এ সময় শান্ত এবং জাহিদ উভয়ে মুখ চেপে ধরে রাখেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পাশের পুকুরে লাশ নিয়ে যান। সেখানে পেটে ছুরিকাঘাত করেন যেন লাশ ভেসে না ওঠে। পরে তিন জন মিলে পুকুরের কাদামাটিতে লাশ চাপা দিয়ে রাখেন। এরপর তানভীরের বাবার মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন জাহিদ। সেই সূত্র ধরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
আজকের সিলেট/ডি/কে.আর
নিজস্ব প্রতিবেদক 








