হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষে বড় ধরনের সুফল পাচ্ছেন কৃষক। ভোজ্যতেলের দাম বাড়তি থাকায় সরিষা বীজ বিক্রিতেও ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটেছে।
আগে এই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বোরো আবাদ চলত। কিন্তু বোরো আবাদে সেচের প্রয়োজন থাকায় সবজমিতেই সেই সেচ সুবিধা মিলত না। এতে বিপুল জমি অনাবাদি থাকত। এই প্রথম কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনাবাদি সেই জমিতে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা, এরপরই সুফল পেতে শুরু করেছেন। হাসি ফুটেছে এই কৃষকদের সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১নং ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর দক্ষিণ দিকে কলকলিয়া নদীর পশ্চিম দিকে জরিপপুর হাওর এলাকাসহ উপজেলার প্রায় সব অঞ্চলে জমিতে এক থেকে দুটি ফসলের বেশি আবাদ হত না। সরকারের কৃষিবান্ধব নানা পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে এই উপজেলার জমিতে চাষ হচ্ছে একটি বাড়তি ফসল। হাওরাঞ্চলবেষ্টিত উপজেলায় অনাবাদ পতিত থাকা জমিগুলোতে আবাদ হচ্ছে সরিষা। অথচ অনেক বছর আগে পানি সংকটসহ নানা কারণে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকত এ সব জমি।
উপজেলার লাখাই ইউনিয়নের স্বজন গ্রামে ২শ শতক জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন কৃষক আব্দুল নুর ও আশীষ দাশগুপ্ত ।
তারা বলেন, সেচের কারনে জমি পরিত্যক্ত থাকত। পরে লাখাই কৃষি অফিসের সহযোগিতায় আমরা এই জমিতে সরিষার চাষ করি। এই জমিতে বৃষ্টির কারণে একবার সরষা গোপন করার পর নষ্ট হয়ে গেছে আমারা দ্বিতীয়বার রোপন করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে ভালো ফসল হয় তাহলে ৯০/৯৫ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব।
সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সাময়িক পতিত জমিতে যদি সরিষার আবার করা হয় সেক্ষেত্রে কৃষকরা বড় ধরনের লাভবান হতে পারে। এ প্রেক্ষিতে এবার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৫৭০০ জন কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করেছে কৃষি কার্যালয়। অনেক জায়গায় বাম্পার ফলনও সম্ভাবনা রয়েছে।
লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান মিজান বলেন, বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করতে আমরা কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি বিনা মূল্যে বিভিন্ন জাতের সরিষা বীজ ও সার কৃষকদের মধ্যে আমাদের এম,পি আলহাজ্ব এডভোকেট আবু জাহির বিতরণ করেছেন। এ ছাড়াও আমরা কৃষকদের পরামর্শসহ সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন অনাবাদি জমিতে চাষ করার জন্য বিশেষ কোনো অনুদান দেওয়া হয়নি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফসলের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








