সিলেট শিক্ষা বোর্ডে কি কারনে ফল বিপর্যয়?
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৯ AM

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে কি কারনে ফল বিপর্যয়?

খলিলুর রহমান

প্রকাশিত: ১৩/০৫/২০২৪ ০১:৪৩:২১ AM

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে কি কারনে ফল বিপর্যয়?


এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক ফল বিপর্যয় কেটে ওঠতে পারছে না মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট ও সিলেটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এসএসসিতে ঘটেছে অন্য বছরের তুলনায় আরো বেকশি বিপর্যয়। তাই মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমছেই কমছে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৪৭১ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ৭১ শতাংশ। গতবছর পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৫২ জন। এর আগের বছর ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। গত ২ বছরে পাশের হার কমেছে শতাংশেরও বেশি।

পরীক্ষার ফলের এই বিপর্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুণ চন্দ্র পাল আজকের সিলেটকে বলেন, যে সব কারনে সিলেট বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটছে, তার অন্যতম হচ্ছে দক্ষ শিক্ষকের অভাব, স্নাতক ও স্নাতক উত্তর মেধাবী এবং দক্ষ শিক্ষার্থীদের বিদেশ গমন, দক্ষ শিক্ষক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠনগুলোর দুর্বলতা এবং প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক তদারকি ও যথাযত প্রশিক্ষণের অভাব।

তিনি বলেন, শিক্ষাবোর্ডের কাজ হলো পরীক্ষা গ্রহন ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা তুলে ধরা। দুর্বলতা দুর করার দায়িত্ব বোর্ডের নয়, এর দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়াই মূলত ধারাবাহিক ফল বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। সংশ্লিষ্টতরা বলতে তিনি মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর-এর স্থানীয় কার্যালয়গুলোকে বুঝিয়েছেন।

ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পরীক্ষায় বোর্ডের পাশের হার বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা, এই তিন বিভাগে পাশের গড় হার দিয়েই নির্ণয় করা হয়ে থাকে। সিলেটে মানবিক শিক্ষার্থী সর্বাধিক বেশি এবং এ বিভাগে বেশি ফেল করায় গড়ে পাশের হার কম হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য মতে সিলেট বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৪ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থী। সিলেট বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৮৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। এর বিপরীতে মানবিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৭ হাজার ৯৫৮ জন, মানবিক ভিাগে ফেল করেছে ২৪ হাজার ৪৩১ জন। এই বিভাগে পাশের হার ৬৮ দশমিক ৫০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ৪০০ জন এবং এই বিভাগে পাশের হার ৭৫ দশমিক ৯৭। সব মিলিয়ে মানবিক বিভাগে শিক্ষার্থী বেশি ও পাশের হার কম থাকায় গড়ে পাশের হার দেখানো হরেয়ছে ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালক ও অভিভাবকদেরকে প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক দুর্বলতা দুরীকরণে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

তবে শিক্ষাবোর্ডের কিছু বিষয়ট নিয়ে দ্বিমত পোষন করে সিলেট সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল সাজিদ বলেন, সিলেটে দক্ষ শিক্ষকের অভাব নেই। কিন্তু শিক্ষকরা যে প্রশিক্ষণ নিয়ে যান সেটা কতটুকু প্রয়োগ করেন সেটা হলো বিষয়। প্রতি বছর সিলেটে তিন থেকে চার সেশনে শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপর সেটা ভালো করে প্রয়োগ করতে না পারলে লাভ হবে না। এজন্য শুধু প্রশিক্ষণ না দিয়ে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আরও তদারকি বাড়াতে হবে।

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন শিক্ষাবিদ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, প্রথমত আমরা যারা শিক্ষক ও অভিভাবক রয়েছি আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। দ্বিতীয়ত, আমরা যেভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের যেভাবে পাঠ উপযোগী করে তুলার কথা সেক্ষেত্রেও পারছি না। এছাড়াও তাদের মধ্যে নানা উপসর্গ রয়েছে। কারণ তারা দেখছে তাদের ভাইবোন বিদেশ চলে যাচ্ছে। সেজন্য সে বড় হয়ে ভালো চাকরি করবে সেই চিন্তা নেই। তাদের চিন্তা চেতনার মধ্যে একটা অস্থিরতা কাজ করছে। এই অস্থিরতা মনোযোগটাকে কেড়ে নিচ্ছে।তৃতীয়ত আরেকটি কারণ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করছেন সেই দায়িত্বে নিঃসন্দেহে একটা ফাঁকফোকর রয়েছে। তা না হলে অন্য জেলার ছেলেমেয়েরা ভালো ফলাফল করতে পারলে আমার জেলার ছেলেমেয়েরা কেন পারবে না। এসবের জবাব খুঁজে বের করতে পারলে তলানী থেকে ওঠে আসা সম্ভব।

আজকের সিলেট/কেআর/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর