বিএনপির দলীয় নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে কিছুতেই বিরত থাকছে না সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরা। একের পর এক বহিষ্কারের সারি দীর্ঘ হলেও দলটির নেতাকর্মীরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহন থেকে কিছুতেই বিরথ থাকছেন না। আর এই দৌড়ে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিশ্বনাথ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার নেতাকর্মীরা। এপর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বিশ্বনাথে এবং প্রচার প্রচারণায় যুক্ত থাকায় গোয়াইনঘাটে সব চেয়ে বেশী নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার বালাগঞ্জ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শেবু আক্তার মনিকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ-পদবী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিলেট জেলায় মনি ছাড়াও ইতিমধ্যে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়অয় বহিষ্কার হয়েছেন- সিলেট জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পলিনা রহমান, জৈন্তাপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা ছাদ উদ্দিন সাদ্দাম, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী গৌছ খান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেবুল মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রব, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাওছার খান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না বেগম।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বিশ্বনসাথ উপজেলায় সর্বোচ্চ ৭ জন নেতানেত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেয়ায় গোয়াইনঘাট উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এতো কিছুর পরও কিছুতেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকছেন না দলটির নেতাকর্মীরা। এর কারন হিসেবে রয়েছেন যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হয়েছেন তাদের অনেকের নিকটাত্নীয় দলটির বিভিন্ন পদপদবীতে রয়েছেন। প্রার্থীরা বহিষ্কার হলেও তাদের নিকটাত্নীয়রা দলের পদপদবীর প্রভাব খাটিয়ে নেতাকর্মীদের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নামাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সেবু আক্তার মনি উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার হলেও তার বড় ভাই পূর্ব গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ভাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ হওয়ার সুবাদে উপজেলায় দলটির অনেক নেতাকর্মীকে বোনের পক্ষে ভোটের মাঠে সক্রিয় করেছেন এতে করে দলের নিয়ম শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছ।
শুধু বালাগঞ্জ উপজেলায়ই নয় সিলেটের অনেক উপজেলায়ই এই চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে করে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী আজকের সিলেটকে বলেন, দলের প্রকৃত নেতাকর্মীরা কেউ এই প্রহসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন করা তো দূরের কথা ভোটেও যাবে না। যারাই বিভিন্ন লোভে পড়ে ভোটে যাচ্ছেন তাদের জন্য বিএনপির দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। বিএনপির কোন নেতাকর্মী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না, আর যারা অংশ নেবে তাদের বিষয়ে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী আজকের সিলেটকে বলেন, যারা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করে তারা এই নির্বাচন নামক সার্কাসে যাবে না। কারন শহীদ জিয়া বলেছেন, 'ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়'। দল ও দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা যাবে বিএনপিতে কোন দিনও তাদের স্থান হবে না।
আজকের সিলেট/এসআর/এসটি
সৈয়দ রাসেল আহমদ 








