ধাপে-ধাপে শুল্ক মুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাতকের ইছামতি, চেলা সহ সবক’টি শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে চুনাপাথর আমদানী বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
গত ৮ জানুয়ারী থেকে এসব শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে চুনাপাথর আমদানী অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়। ফলে চুনাপাথর আমদানী ও ব্যবসার সাথে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহ লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন লক্ষ-লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
জানা যায়, চুনাপাথর আমদানীতে প্রতি মেট্রিক টন হিসেবে ১১.৫ ডলার করে শুল্ককর দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় তিন মাসের আগে ব্যবসায়ীদের সাথে শুল্ক বিভাগের এক বৈঠকে সমুজতার ভিত্তিতে আরো ০.৭৫ ডলার বৃদ্ধি করে প্রতি মেট্রিক টন চুনাপাথর আমদানীর ক্ষেত্রে ১২.২৫ ডলার শুল্কমুল্য নির্ধারন করা হয়। কিন্তু তিন মাসের ব্যবধানে এ শুল্কমুল্য আরেক ধাপ বৃদ্ধি করে ১৩.৫ ডলারে উন্নীত করায় বিপাকে পড়েন আমদানীকারকরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক সিলেট অঞ্চলের স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানী চুনাপাথর উপর প্রতি মেট্রিক টন ১৩.৫ ডলার হারে নির্ধারণ করে ৯ জানুয়ারী থেকে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়। এভাবে ধাপে-ধাপে শুল্ক মুল্য বৃদ্ধি এবং প্রতি টনে ১৩.৫ ডলার হাড়ে শুল্কমুল্য দিয়ে আমদানী করা চুনাপাথর ব্যবসা ক্ষেত্রে লোকসানের আশংকা করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ব্যবসায়ীরা চুনাপাথর আমদানী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে, শুল্কমুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবীতে মঙ্গলবার রাতে ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোটার্স এন্ড সাপ্লাইয়ার্স গ্রæপের কার্যালয়ে চুনাপাথর ব্যবসায়ীদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপের জেনারেল সেক্রেটারী অরুন দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইছামতি, চেলা সহ সিলেট অঞ্চলের সবক’টি শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে চুনাপাথর আমদানী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষনা দেন এফবিসিসিআই’র ল্যান্ড পোর্ট, বর্ডার ট্রেড, ট্রানজিট এন্ড ট্রানসিপ্টমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের পরিচালক, ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোটার্স এন্ড সাপ্লাইয়ার্স গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী।
এদিকে, চুনাপাথর আমদানী বন্ধ হওয়ায় চুনাপাথর ব্যবসার সাথে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে। বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার-হাজার পাথর শ্রমিক। দৈনন্দিন জীবন-জীবিকায় উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ায় এসব শ্রমিক পরিবার নিয়ে পড়েছেন হুমকীর মুখে।
ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোটার্স এন্ড সাপ্লাইয়ার্স গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী জানান, অতিরিক্ত শুল্ক মুল্য দিয়ে চুনাপাথর আমদানী করলে লোকসানের মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। লোকসানের কথা চিন্তা করেই আমদানী বন্ধ রাখা হয়েছে। চুনাপাথর ব্যবসা ও ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় অতিরিক্ত শুল্কমুল্য প্রত্যাহারের দাবী জানান তিনি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








