মুছলেখা দিয়ে রক্ষা পেলেন 'ডাক্তারী করা' শিক্ষক
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৪:০০ AM

মুছলেখা দিয়ে রক্ষা পেলেন 'ডাক্তারী করা' শিক্ষক

ওসমানীনগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/০৬/২০২৪ ০৮:৪২:২৭ AM

মুছলেখা দিয়ে রক্ষা পেলেন 'ডাক্তারী করা' শিক্ষক


ওসমানীনগরে কোনো ধরনের চিকিৎসার প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেডিকেল ক্যাম্প করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করায় চাতলপাড় জামিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হাই আল হাদি মুছলেখা দিয়ে রক্ষা পেয়েছেন। আর কোন দিন এরখম কর্মকান্ড করবেন না মর্মে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত মুছলেখা প্রদান করেন তিনি।

মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে টনক নড়ে উপজেলা প্রশাসনের। বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সামনে লিখিত মুছলেখা প্রদান করে রক্ষা পান তিনি।

জানা গেছে, কোনো ধরনের চিকিৎসার প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ও স্থানীয় জুবায়ের আল-মখসদ নামে একজনকে নিয়ে গত রবিবার উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের সুন্দিকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে মেডিক্যাল ক্যাম্প।

অভিজ্ঞ ডাক্তারদের দিয়ে মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হবে বলে প্রচার করলেও চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, শিক্ষার্থীরাসহ স্থানীয় জুবায়ের আল মখসদ।

জানা যায়, একজন ফ্রান্স প্রবাসীকে ম্যানেজ করে অর্থ এনে মেডিক্যাল ক্যাম্পের নামে এমন কর্মকান্ডের সৃষ্টি করেন ওই অধ্যক্ষ। প্রবাসীর কাছ থেকে অর্থ আনলেও স্থানীয় সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে জোর পূর্বক অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি।

এদিকে, চিকিৎসা সেবায় একি সাথে হোমিওপ্যাথির ও এলোপ্যাথি ঔষধ রোগীদের প্রদান করারও অভিযোগ উঠে।

অন্যদিকে, এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ও  উপজেলা প্রশাসনে মুছলেখা দিলেও ওই অধ্যক্ষ তার অনুসারী শিক্ষার্থীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিকদের কটাক্ষ করে নানা ধরনের মন্তব্য করাচ্ছেন।

মুছলেখা প্রদানের বিষয়টি জানতে চাতলপাড় জামিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হাই আল হাদির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

অধ্যক্ষের মুছলেখা প্রদানের বিষয়টি নিশচিত করে ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:ময়নুল হাসান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ আব্দুল হাই আল হাদি অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া মেডিক্যাল ক্যাম্প করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়টি তার ভূল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। আগামীতে এরকম কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন না মর্মে লিখিত মুছলেখা প্রদান করেছেন তিনি।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর