পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চায়ের দেশ
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৫১ AM

পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চায়ের দেশ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭/০৬/২০২৪ ০২:০৮:৪০ AM

পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চায়ের দেশ


ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে আস্বাদন করতে চান ভ্রমণপিপাসুরা। আর তাদের গন্তব্যগুলোর একটি হলো চায়ের দেশ মৌলভীবাজার। যেখানে অবকাশের সেই সময়টুকু আনন্দময় করে তোলার জন্য রয়েছে দর্শনীয় অনেক স্থান।

জেলার ছোটবড় বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও এখানে বসবাস করেন বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মণিপুরি সম্প্রদায় অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা পর্যটন আকর্ষণে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এই জেলার প্রত্যেক উপজেলার যেদিকে চোখ পড়বে, দেখা মিলবে সবুজের সারি সারি চা বাগান। যা ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। দেশের ৭টি বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে লাউয়াছড়া অন্যতম। ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে এ বনে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য বনটি বিখ্যাত। এছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ এবং উদ্ভিদ।

হামহাম জলপ্রপাত

অত্যন্ত দূর্গম আর গভীর জঙ্গলে অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাত পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতি পদে পদে যেমন রয়েছে বিপদের ভয়, তেমনি রয়েছে রোমাঞ্চের হাতছানি। সেই রোমাঞ্চের টানেই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণীয় স্থান হামহাম জলপ্রপাত। নির্জন পাহাড়ের ওপর থেকে আছড়ে পড়া স্রোতধারা শাঁ, শাঁ শব্দ বয়ে যাচ্ছে সমতলে। সেই সৃষ্ট জলকনা তৈরি করছে কুয়াশার আবরণ। প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ততা বিশিষ্ট এবং ১৩৩ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এ জলপ্রপাতটি দিনদিন রোমাঞ্চকর অভিযাত্রীদের এক তীর্থভূমি হয়ে উঠেছে।

মাধবপুর লেক

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘মাধবপুর লেক’। সুনীল আকাশ, গাঢ় সবুজ পাহাড়, শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো মনোরম চা-বাগানের দৃশ্যে আপনি হারিয়ে যাবেন আপনমনে। চারদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত লেকটি সত্যি অপূর্ব। লেকের ঝলমল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা-শালুকের উপস্থিতি আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে পরিবেশ।

বাইক্কা বিল

একাধারে পাখি, মাছ ও গাছগাছালির অভয়ারণ্য বাইক্কা বিল মূলত হাইল হাওরের অন্তর্ভুক্ত একটি অংশ। অগভীর এই হ্রদটিতে বিভিন্ন গাছপালার দেখা মেলে। সেই সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় জলাভূমিও। বিলের ঘেরাটোপে প্রবেশ করতেই পাখিদের মন মাতানো কলকাকলিতে মন ভরে উঠবে। যেহেতু বাইক্কা বিলে মাছ ধরা নিষেধ, বিলে থাকা মাছের ঝাঁক প্রতিবছরই পাখিদের আকর্ষণ করে। শীতকালে এখানে পরিযায়ী পাখিরা ভিড় করে। তাই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য অন্যতম পছন্দের জায়গা এই বিল।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত

পাহাড়ের উপর সবুজ বৃক্ষরাজি ও তার বুক চিড়ে উঁচু-নিচু টিলার প্রবহমান স্বচ্ছ স্রোতস্বিনী জলধারা প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে প্রকৃতিপ্রেমীদের। নির্জন, শান্ত পাহাড়ের শরীর জুড়ে থাকা নাম না জানা লতাপাতা, গুল্ম, বন, বুনোফুল ও ফলের গাছ আগলে রাখা পরম মমতায় সৃষ্টির এক বিস্ময়। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য তেমনই এক সৌন্দর্যের আধার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত।

জলের গ্রাম

‘বর্ষায় নাও হেমন্তে পাও’ অর্থাৎ অন্তেহরি গ্রামে বর্ষায় যাতায়াতের প্রধান ভরসা নৌকা। শীত মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলতে হয় গ্রামের পথেঘাটে। বর্ষায় হাওরের বুকে থাকে থইথই জলের ওপর এক টুকরো সবুজের হাতছানি। নামে রূপে গ্রামখানি প্রশান্তির এক আদর্শ স্থান। শাপলা-শালুকসহ নাম না জানা বাহারি বর্ণের ফুল যেন জানান দেয়- স্বাগতম হে অতিথি। কাউয়াদিঘি হাওরের কোল ঘেঁষা হিজল-করচ-তমাল বনের এই গ্রামটিকে করেছে অপরুপ অনন্য। বর্ষায় শাপলা-শালুক মুগ্ধতা ছড়ায়। শীতে সবুজের রাজ্যে পাখিদের নিরাপদ শান্তির নীড় এই গ্রামটি।

তাছাড়াও এ জেলায় আছে গভীরে অরণ্যের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাহাড়ি টিলার মধ্যে সারি সারি চা বাগান, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ। প্রাণ প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ আদমপুর বনবিট। মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি। শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরিসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ ভ্রমণপিপাসুদের মন ও দৃষ্টি কড়ে নেবে প্রকৃতির অপর মহিমায়।

এছাড়া মণিপুরি, খাসিয়া, গারোসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস এ জেলাকে করেছে সমৃদ্ধ। তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সবাইকে আকর্ষণ করে, বিশেষ করে মণিপুরি শাড়িসহ তাদের উৎপাদিত পণ্যগুলো নজর কাড়ে এখানে আসা ভ্রমণপিপাসুদের। রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ী, গগণ ঠিলা, রাজনগরের কমলারানীর দীঘি, মাথিউরা চা ও রাবার বাগান, শ্রীমঙ্গলের নীলকণ্ঠের সাত রঙের চা, চা গবেষণা কেন্দ্র,৭১ বধ্যভূমি, চা-কন্যা’ ভাস্কর্য। সদরের মনু ব্যারেজ, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক এবং ছোট বড় পাহাড় টিলা।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগে প্রাত্যহিক রুটিনের বাহিরে এসে একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস ও আনন্দ পেতে যেকোনো দিনে যেকোনো সময়ে হাজারও ভ্রমণপিপাসুরা আসেন মৌলভীবাজারে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর