উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে এবং বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে বালাগঞ্জের প্রায় ৬০ টি গ্রামের মানুষ। ইতিমধ্যে ইউনিয়নগুলোর প্রায় ৮০ ভাগ এলাকাই বন্যার পানির নিচে। অবশিষ্ট যে এলাকাগুলো রয়েছে সেগুলোর অবস্থাও আশংকাজনক। আরেকটু বৃষ্টিপাত হলেই সে এলাকাগুলোও প্লাবিত হয়ে যাবে।
বালাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বালাগঞ্জে এখন পর্যন্ত মোট ১৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার মধ্যে ৬ টি আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্ত মানুষজন আশ্রয় নিয়েছেন।
উপজেলার ১নং পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের হামছাপুর, সাদেকপুর, জালালপুর, রশিদপুর আংশিক, গালিমপুর আংশিক, ভাটপাড়া, ঐয়া গ্রামের রাস্তায় এবং বাড়িগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে।
২নং বোয়ালজুড় ইউনিয়নের মনোহরপুর, সিংড়াকোণা, মাকড়সি, মকবেলপুর, সর্মানন্দপুর, উজিয়ালপুর, বাণীগাও, একালিমা, মজলিসপুর এই গ্রামগুলোর প্রায় ৮০% ভাগই পানিবন্দী।
৩নং দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের কুবেরাইল, কুকুরাইল, গোয়াসপুর, শংকরপুর, পাঁচহাল, মোহাম্মদপুর, কলুমা, নোয়াগাও, হোসেনপুর, কদুপুর, ইব্রাহিমপুর, দত্তপুর আংশিক, তালতলা আংশিক, জামালপুর আংশিক, নিয়ামতপুর ও বণগাও গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা এবং বাড়িগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে।
৪নং পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের আতাসন, কলমপুর, শ্রীনাথপুর, হরিশ্যাম, বাংলাবাজার, তেঘরিয়া, দক্ষিণগৌরীপুর সহ আরও একাধিক গ্রামের মানুষজন পানিবন্ধী।
৫ নং বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রুপিয়া, বির্ত্তনিয়া, চরসুবিয়া, গোড়াপুর, কুসারগ্রাম, চরভিতা, বদরনগর, নবীনগর, রাধাকুনা, করচারপাড়, আসামপুর, মজলিসপুর, রিফাতপুর, প্রসন্নপুর, জগতপুরসহ আরও একাধিক গ্রামের রাস্তা ও ঘর-বাড়ি বন্যার পানিতে প্লাবিত।
৬নং পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মৈশাসী আংশিক, সাদেকপুর, মধুরাই আংশিক, চকদৌলতপুর আংশিক, কায়েস্থঘাট আংশিক, মুসলিমাবাদ আমজুড়, হাড়িয়ারগাও, নূতনসুনামপুর সহ আরও একাধিক গ্রামের রাস্তা এবং ঘর-বাড়িগুলোতে পানি উঠেছে।
ইতিমধ্যেই বন্যা মোকাবিলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বালাগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ডিএম সাদিক আল সাফিন।
উল্লেখ্য, কুশিয়ারা নদী থেকে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের সুইচগেইট দিয়ে প্রবল স্রোতে বড়ভাঙায় পানি প্রবেশ করে বালাগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে।
এছাড়াও প্রায় ৬ মাস আগে বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ সংযোগ সড়কের মুসলিমাবাদ আমজুড় এলাকায় কুশিয়ারা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া রাস্তার পাশে তৈরী বিকল্প রাস্তা ভেঙে গিয়েছিল। নতুন করে কুশিয়ারার পানি রাস্তায় প্রবাহিত হওয়ায় এবং অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাতের কারণে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে এসড়কটি। ফলে বালাগঞ্জের পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র এ রাস্তাটিতে যানচলাচল বন্ধ থাকায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষজন।
পূর্ব পৈলনপুরের ইউপি সদস্য আসাদুর রহমান বলেন, আমাদের ইউনিয়নের প্রায় ৭-৮ টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পাশে যে গ্রাম গুলো রয়েছে সেগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক।
পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মালিক বলেন, আমার আতাসন ও কলমপুর গ্রাম ইতিমধ্যেই পানিতে প্লাবিত। আমার ওয়ার্ডে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবায়িত ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত যে আশ্রয়কেন্দ্র গুলো রয়েছে তার প্রতিটি ঘরেই হাটুর উপরে পানি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি 








