গোয়াইনঘাটে কমছে বন্যার পানি নিজগৃহে ফিরছে মানুষ
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১০:০০ AM

গোয়াইনঘাটে কমছে বন্যার পানি নিজগৃহে ফিরছে মানুষ

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে

প্রকাশিত: ২৩/০৬/২০২৪ ০৩:৫৩:৫৩ AM

গোয়াইনঘাটে কমছে বন্যার পানি নিজগৃহে ফিরছে মানুষ


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দ্বিতীয় দফার বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে।ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ও স্হানীয়ভাবে গত দুই দিন  বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সারী গোয়াইন ও পিয়াইন নদীতে কমেছে স্রোতের তীব্রতা। বর্তমানে নদীগুলোর বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানির নিচ থেকে ভেসে উঠেছে অনেক রাস্তাঘাট। শুক্রবার শনিবার ২ দিন আকাশে মেঘাচ্ছন্ন ভাব কাটিয়ে মিলেছে রোদের দেখা। সবার মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

ক্রমশ বন্যার পানির উন্নতি হওয়ায় বন্যার পানি থেকে উদ্ধার হয়েছে অনেক বাড়িঘর।তবে বেড়েছে দুর্ভোগ।অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে ছেড়ে ফিরছেন নিজ গৃহে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর এখনো পানিতে প্লাবিত রয়েছে। চলাচলের সড়কগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় স্বাভাবিক চলাফেরাও করা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষ ও তাদের গবাদি পশুরা খাদ্য সংকটে পড়েছেন। সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায়, যান চলাচলে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়ার ভোগান্তি। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বসত বাড়ি সংস্কারে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এদিকে পানি নেমে যেতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কিন্তু রয়েই গেছে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়া অনেক মানুষ এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সরকারি উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছেন বন্যাকবলিতরা। তাদের দাবি নিত্য প্রয়োজনীয় পূন্য সামগ্রী সহ বসতবাড়ি সংস্কারে সরকারের পক্ষ থেকে যেনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

প্রকৃতির বৈরিতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত গোয়াইনঘাটে বসবাসরত মানুষ।বর্তমান বন্যায় উপজেলার ২২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়,লক্ষাধিক পরিবার ছিল পানিবন্দী।উপজেলা ১৫-শত হেঃ কৃষি জমি নিমজ্জিত হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আজকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।এখন পর্যন্ত উপজেলার ১৯৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ও ১২৯ টি গ্রাম প্লাবিত রয়েছে।ছয়টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৯০ জন জনসংখ্যা ও ৬৯ টি গবাদি পশু রয়েছে। স্বাস্থ্য সেবায় দশটি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান,পানি অনেক কমছে। এ কারণে উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। বন্যায় আক্রান্তদের সহায়তা অব্যাহত আছে। উপজেলার বন্যায় আক্রান্ত নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোর দিকে বিশেষ নজর রাখছি আমরা। অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর