সিলেটে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। চেরাপুঞ্জিসহ ভারতেও বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বন্যা শেষ হওয়ার আগেই সিলেট-সুনামগঞ্জে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা প্লাবিত এলাকাগুলোতেও নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শনিবার সন্ধ্যা ৬টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, ডাউকি, সারি-গোয়াইন, ধলাইসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি সামান্য বেড়েছে। শুধু কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় শনিবার ফের সতর্কতা দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এতে সিলেটসহ দেশের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এমন বৃষ্টি ৩ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত থাকতে পারে। এতে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারার পানি দ্রুত বাড়তে পারে। সেইসঙ্গে পুরাতন সুরমা ও সারিগোয়াইন নদীর পানি দ্রুত বেড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত আছে। এর মধ্যে আবার নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্ক বাণী দিয়েছিল। শেষ ২৪ ঘন্টায় সিলেটে ২৭.১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময় সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ১৪১ মিলিমিটার।সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটের ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ উপজেলার অসংখ্য গ্রাম এখনো প্লাবিত। এসব এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামছে।
এদিকে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি টানা ২৮ দিন ধরে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ওই পয়েন্টে পানি বিপদসীমায় অবস্থান করে। পরে ২ জুন থেকে গতকাল ২৯ জুন পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফলে কুশিয়ারা অববাহিকার জনপদ উপজেলা ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জে এখনো নামেনি পানি। জেলার অন্যান্য উপজেলায় পানি কমলেও এই চার উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে বন্যা। এসব এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো মানুষের বসবাস। চার উপজেলায় গ্রামীণ রাস্তায়ও পানি। চরম দুর্ভোগে রয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। বন্যা স্থায়ী রূপ নেয়ায় অনাহারে, অর্ধাহারে কাটছে মানুষের জীবন।
এছাড়া মৌলভীবাজারের হাকালুকি তীরের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এই তিনটি উপজেলার প্রায় তিন লাখ বন্যাকবলিত মানুষ এখনো চরম দুর্দশায়। সিলেটের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, কুশিয়ারা নদীতে জুড়ী নদী ও শেরপুরের মনু নদের পানি এসে মিলিত হয়। একই নদীতে আরও দুটি নদীর পানি মিলিত হওয়ায় পানি বেড়ে যায়। ফলে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার নিচে নামতে সময় লাগে।
অন্যদিকে কিছু এলাকায় পানি নেমে যাওয়ায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও গ্রামীণ সড়ক ভেঙে গেছে। মানুষজনের বাড়িঘর দেবে গেছে। কারও কারও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ফসল তলিয়েছে। নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এসব এলাকায় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের।
এর আগে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৯ মে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। ৮ জুনের পর বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সর্বশেষ ১৭ জুন শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে সিলেট নগরের ২৪টি ওয়ার্ডসহ ১৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ১৩টি উপজেলা কমবেশি প্লাবিত হয়। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় বন্যার আশঙ্কায় অনেকটাই আতঙ্কে সময় কাটছে মানুষের।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি









