সিলেটে আতঙ্কের ছায়া: আগের বন্যা শেষ না হতেই নতুন বন্যার আভাস
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৩৬ PM

একের পর এক আতঙ্ক সিলেটে

সিলেটে আতঙ্কের ছায়া: আগের বন্যা শেষ না হতেই নতুন বন্যার আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০/০৬/২০২৪ ০২:০১:৩৫ AM

সিলেটে আতঙ্কের ছায়া: আগের বন্যা শেষ না হতেই নতুন বন্যার আভাস


সিলেটে আবারও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। চেরাপুঞ্জিসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায়ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সিলেটে শুক্রবার এবং শনিবার দিনভর ঝিরিঝিরি হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তবে দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং রোদের দেখা মেলেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, ডাউকি, সারি-গোয়াইন, ধলাইসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি সামান্য বেড়েছে। কেবল কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র শনিবার সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় সিলেটসহ দেশের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এই বৃষ্টি ৩ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত থাকতে পারে, যা আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারার পানি দ্রুত বাড়াতে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তরপূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত। নতুন করে বৃষ্টির কারণে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসেন আজকের সিলেটকে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৭.১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ১৪১ মিলিমিটার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটের ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ উপজেলার অনেক গ্রাম এখনো প্লাবিত। এসব এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামছে। তবে, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি টানা ২৮ দিন ধরে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে ওই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠেছে।

মৌলভীবাজারের হাকালুকি তীরের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার প্রায় তিন লাখ বন্যাকবলিত মানুষ এখনো চরম দুর্দশায় রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানির স্তর কমতে বেশি সময় লাগছে, ফলে পানি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে এলাকাগুলোতে সমস্যা সৃষ্টি করছে।

অনেক এলাকায় পানি নেমে যাওয়ায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। গ্রামীণ সড়ক ভেঙে গেছে, বাড়িঘর দেবে গেছে, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং ফসল তলিয়ে গেছে। নতুন করে বন্যা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন।

আগের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৯ মে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। ৮ জুনের পর বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। সর্বশেষ ১৭ জুন শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে সিলেট নগরের ২৪টি ওয়ার্ডসহ ১৩টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের ১৩টি উপজেলা কমবেশি প্লাবিত হয়। নতুন করে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় বন্যার সম্ভাবনায় এখনো অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর