সিলেটে আবারো ভয়াবহ হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ PM

সিলেটে আবারো ভয়াবহ হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২/০৭/২০২৪ ০৫:৪০:৪৯ AM

সিলেটে আবারো ভয়াবহ হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি


সিলেটে তৃতীয় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সোমবার  বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার ৬টি উপজেলা। সিলেট মহানগরেরও অনেক জায়গা নতুন করে বন্যায়ে তলিয়ে গেছে। সারাদিন ও রাতভর বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে । পাশাপাশি ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে ও নতুন করে আরও এলাকা প্লাাবিত হয়ে সিলেটে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সিলেটে ৫টি নদীর পানি ৬টি স্থানে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া সকাল পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় সিলেটে ৩ শ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মাত্র ৩৫ দিনের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মত বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট। দ্বিতীয় দফার বন্যায় এখনো ৭ লক্ষাধিক মানুষ  পানিবন্দী। এরই মাঝে অবিরাম বৃষ্টি ও উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে সোমবার নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে জেলার ৬টি উপজেলায়। রাতের দিকে মহানগরের অনেক স্থান তলিয়ে যায় বানের পানিতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- আগামী ৩ দিন সিলেটে ও উজানে ভারতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সিলেটে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

সিলেটে গত ২৭ মে আগাম বন্যাদেখা দেয়। দুই সপ্তাহ ব্যাপী স্থায়ী এ বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রথম বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন থেকে ফের বন্যা হয় সিলেটে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আযহার ভোররাত থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে মহানগরসহ সিলেটের সব উপজেলা প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ হয়ে পড়েন। পরবর্তী এক সপ্তাহ সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি ছিলো ভয়াবহ। এরপর বন্যার পানি ধীর গতিতে নামতে শুরু করে।

দ্বিতীয় দফা বন্যা শেষ হওয়ার আগেই সোমবার থেকে সিলেটে আবার দেখা দিয়েছে তৃতীয় দফায় বন্যা। রোববার (৩০ জুন) দিনভর সিলেটে থেমে থেমে ও উজানে ভারী বৃষ্টির ফলে নতুন করে বন্যা দেখা দেয়। জেলার কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট  ও সিলেট সদর উপজেলার যেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছিলো সেসব এলাকা ফের প্লাবিত হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কানাইঘাটে সুরমা ও লোভা নদীর পানি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। ফলে আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত সুরমা ডাইকের অন্তত ১৮টি স্থান দিয়ে সুরমা ও লোভা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রত্যন্ত জনপদ ফের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে প্লাবিত বাড়ি-ঘরের মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন বাজার তলিয়ে পানি ঢুকেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এতে নতুন করে ক্ষতিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া প্লাবিত হয়েছে কোম্পানীঞ্জ, গোয়াইনঘাট,জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা। ফলে তৃতীয় দফা ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জানায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় সিলেটে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পাউবো আরও সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টায়  সিলেটের ৫টি নদীর পানি ৬ পয়েন্টে বিপদসীমার উপরে ছিলো। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১১৮ সে.মি., কুশিয়ারার পানি আমলশীদ পয়েন্টে ৭১ সে.মি, এ নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ২২ সে.মি ও কুশিয়ারা পয়েন্টে ০.৭ এবং সারিগোয়াইন নদীর পানি গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে বলে জানায় পাউবো।

সোমবার রাতে সিলেটের জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়- এদিন দুপুর পর্যন্ত সিলেট মহানগর ছাড়া জেলার সব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি চলমান আছে। জেলার ১ হাজার ৮১টি গ্রামের ৭ লাখ ৩ শ ৩৬ জন মানুষ পানিবন্দী। এসব উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ হাজার ৩০৮ জন মানুষ রয়েছেন। বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করে বন্যার্ত অসুস্থ মানুষকে প্রদান করা হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

সিলেট ছাড়াও বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদ সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আজকের সিলেট/কে.আর

সিলেটজুড়ে


মহানগর