আজমিরীগঞ্জ পঞ্চম শ্রেনী পাস করেই বিপাকে পড়েছে হাজরো শিক্ষার্থী
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৪ PM

আজমিরীগঞ্জ পঞ্চম শ্রেনী পাস করেই বিপাকে পড়েছে হাজরো শিক্ষার্থী

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯/০১/২০২৪ ১১:০০:১৭ AM

আজমিরীগঞ্জ পঞ্চম শ্রেনী পাস করেই বিপাকে পড়েছে হাজরো শিক্ষার্থী


হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় পঞ্চম শ্রেনী পাস করেই বিপাকে পড়েছে হাজরো শিক্ষার্থী। নতুন কারিকুলামে ভর্তির জটিলতা নিয়ে ৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি ৬ষ্ট শ্রেনীর ভর্তির কার্যক্রম। ফলে জানুয়ারী মাসের দুই তৃতীয়াংশ সময় পার হয়ে গেলেও শুরু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রম।

শিক্ষা বিভাগ বলছে, বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি বলছে, সমস্যা নিরোসনে শিক্ষা অধিদপ্তরের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ বিষয়। ফলশ্রুতিতে দুই কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতায় দেড় শহস্রাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিয়তার মুখে বলে অভিযোগ অভিবাবকদের।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর ৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ২হাজার ২শ ৪০জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে উপজেলায় এমপিওভুক্ত ও বেসরকারি ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি দাখিল মাদ্রসা রয়েছে। সর্বশেষ সরকারী পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রতিটি সেকশনে (শাখায়) ৫৫জনের বেশী শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ নেই। সেই হিসেবে উপজেলার ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসায় সেকশন রয়েছে ১৩টি। প্রতিটি সেকশনে ৫৫জন করে মোট শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে ৭১৫জন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন জমা পড়েছে গড়ে ২শতাধিক। সেই হিসেবে মোট আবেদনের সংখ্যা ২সহশ্রাধিক। কিন্তু নতুন কারিকুলামে সরকারী পরিপত্র অনুযায়ী মাত্র ৭১৫জন শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ রয়েছ্। ফলশ্রুতিতে দেড় সহশ্রাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ফলে প্রাইমারী পাস করা হাজারো শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, শিক্ষার্থী যাতে ঝরে পড়ে না যায় তার নীতিগত কৌশল নির্ধারণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিটি পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে সহযোগীতা রাওয়া হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দ্রুত খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি জানায়, এই মূর্হূতে সেকশন বাড়ানো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ সময় সাপেক্ষ। তাছাড়া এমনিতেই উপজেলায় শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। কোন কোন বিদ্যালয়ে ২৫জন শিক্ষকের বিপরীতে ৯জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। পাশাপাশি অবকাটামোগত উন্নয়নের জন্য ব্যাপন অর্থায়ন প্রয়োজন, যা কোন ভাবেই বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো সম্ভব নয়। এতে করে সমস্যা নোরোসন না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি করা যায়নি। ছেলে মেয়েরা প্রতিদিন স্কুলে আসছে আর ফিরে যাচ্ছে।

এবিসি সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইয়াছমিন বেগম জানান, আমার বিদ্যালয়ে দুটি সেকশনে ১৮০টি আবেদন পড়েছে। বিপরীতে আমরা ১১০জনকে ভর্তির সুযোগ দিয়েছি। লটারী হয়েছে তবে ভর্তি কার্যক্রম এখনো শুরু হয় নাই। এই মূর্হুতে আমাদের বিদ্যালয়ে ২৫জন শিক্ষক প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে আছেন খন্ডকালীন ২জনসহ মাত্র ১১জন শিক্ষক। এই অবস্থায় নতুন করে আরো সেকশন কিভাবে বৃদ্ধি করব। তিনি আরো বলেন, স্কুলে অনেক অভিবাবক ছেলে মেয়েকে নিয়ে এসে কান্নাকাটি করেছেন। অনেকে দুঃসচিন্তায় অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবগত করেছি। শিক্ষার্থী যথা সময়ে ভর্তি হতে না পারলে ঝরে পড়ার শঙ্কা থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল ভৌমিক জানান, ইতিমধ্যে শিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তাছাড়া স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে সহযোগীতা চেয়েছি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দ্রুত খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে। যাতে করে কোন শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লা জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেকশন বৃদ্ধি, শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাটামোগত উন্নয়নের বিষয়ে তারা উদ্যোগ নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করবে।

দীপা আক্তার নামে একজন শিক্ষার্থীর অভিবাবক জেসমিন আক্তার আক্ষেপ করে জানান, আমার মেয়েটির লেখাপড়া এখানেই শেষ হয়ে গেল। কোন স্কুলে ভর্তির সুযোগ হলো না। যে স্কুলেই নিয়ে যাই সেখানে কৌঠা পুরণ হয়ে গেছে বলে জানানো হয়।

হোসনা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, আমি মিয়াধন মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু ভর্তির সুযোগ হয় নাই। আমার স্বপ্ন ছিল আমি একদিন শিক্ষক হবো। আমার সেই স্বপ্ন এখানে শেষ।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর